মাছ-সবজিতে অস্বস্তি, কাঁচা মরিচ ৩০০ ছুঁই ছুঁই

রাজধানীর বাজারে মাংস, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছ ও সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে, ১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন।

মাছের বাজার

বাজারে মানভেদে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি।

চাষের কই, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। আকার ভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা বাধন খান বলেন, ‘আড়তে সরবরাহ কম, জলাবদ্ধতার কারণে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আড়ত থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছি। সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে।’

মাছের দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। রায়সাহেব বাজারের ক্রেতা মো. তুহিন মিয়া বলেন, ‘মাছের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের বাজার হতো, এখন তা দিয়ে একদিনের প্রয়োজনও মেটানো যাচ্ছে না।’

একই বাজারে ক্রেতা জুলেখা বেগম বলেন, ‘মাংসের দাম অন্তত স্থির আছে, কিন্তু মাছের বাজারে এলেই নতুন দাম শুনতে হয়। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনে ফিরতে হচ্ছে।’

ডিমের দাম স্থিতিশীল। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন।

মাংস, মুরগি ও ডিম

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা।

সবজির বাজার

সবজির বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঝিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন।

লাউ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। গাজরের কেজি ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে।

সব ধরনের শাকের দামও বেড়েছে। লাল শাকের আঁটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নারিন্দা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চাষিদের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের খেতে পানি জমে আছে। ফলে সরবরাহ কমে গেছে, তাই দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’

ক্রেতাদের অসন্তোষ

বাজারে সবজি কিনতে আসা হাবির সেখ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কিছুটা কমবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অজুহাতে দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। ১০০ টাকার নিচে বাজারে কোনও সবজিই পাওয়া কষ্ট। এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’

দিনমজুর সুমন শেখ বলেন, ‘সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যে টাকা পাই, তা দিয়ে চাল কেনার পর সবজি কেনার মতো আর টাকা থাকে না। আগে ১০-২০ টাকায় যেটুকু শাক বা সবজি পাওয়া যেত, তা দিয়ে কোনোমতে এক বেলা পার করা যেত। এখন সব কিছুর দাম দ্বিগুণ। চড়া দামের কারণে আলু আর পেঁপে ছাড়া আর কিছুই কেনার সাধ্য আমাদের নেই।’