একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে এক দিনে ২৫০ কোটি টাকা তুলেছেন ৬ হাজার গ্রাহক

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ৬ হাজার আমানতকারী মোট ২৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। তবে আমানত উত্তোলনে গ্রাহকদের চাপ প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে বর্তমানে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলোর মোট শাখা রয়েছে ৭৬১টি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা ফেরত পেতে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়। পরে সোমবার সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানো হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানতের টাকা তুলতে গ্রাহকেরা ব্যাংকে আসছেন। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। অনেক গ্রাহক কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই টাকা তুলতে পেরেছেন।

দীর্ঘদিন পর নিজেদের জমা করা অর্থ হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গ্রাহকেরা। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় সন্তোষ জানিয়েছেন তারা।

মতিঝিলে এক্সিম ব্যাংকের একটি শাখায় টাকা তুলতে আসা এক আমানতকারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকা তুলতে না পারায় তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারায় তার স্বস্তি ফিরেছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান বলেন, ‘আমানত উত্তোলনের জন্য এসে কোনো গ্রাহক ফেরত যাবেন না। যারা টাকা তুলতে আসবেন, সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা বাড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমও ফিরতে শুরু করেছে।