সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের টাকা ফেরত পেতে আবেদন জমা দেওয়ার হার তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ২১ হাজার ৮৬ জন আমানতকারী টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৯২৩ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।
এর আগে আবেদন গ্রহণের প্রথম দুই দিন মঙ্গলবার ও বুধবার ৩৭ হাজার আমানতকারী প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ফলে তিন দিনে মোট ৫৮ হাজার ৮৬ জন আমানতকারী প্রায় ৩ হাজার ২২৩ কোটি টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় গিয়ে গ্রাহকদের আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদন গ্রহণকে কেন্দ্র করে এসব শাখায় গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক শাখায় আবেদন জমা দিতে আসা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ব্যাংক কর্মকর্তারা।
ব্যাংক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার প্রথম দিনে প্রায় ১৮ হাজার আমানতকারী ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। বুধবার দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৯ হাজার আমানতকারী আবেদন করেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ফেরতের জন্য। আর বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬ জনের কাছ থেকে ৯২৩ কোটি টাকার আবেদন পাওয়া গেছে।
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আগামী রোববার পর্যন্ত আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে।
মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাঁদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা এই মুহূর্তে পাওয়া যাবে না।
কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক এখনই টাকা তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ব্যাংকটির মোট ৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রথম দিনে ১৮ হাজার আমানতকারী পুরো মূল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। মোট আমানতকারীর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বোঝা যায়, ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের এখনো যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠন
সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই একীভূতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে।
একীভূত হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।









