বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ

বাজেট ২০১৬-১৭প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০টি উদ্যোগে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, একটি বাড়ি একটি খামার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, কমিউিনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, আশ্রয়ণ, শিক্ষা সহায়তা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বিকাশ। বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ১০ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আর্থ-সমাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হবে। তিনি বলেন, গত সাত বছরে বিভিন্ন খাতে সরকার যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তার মধ্যে অনেক উদ্যোগই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত। যা ইতোমধ্যে ‘শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।  প্রধানমন্ত্রীর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র সঞ্চয় উৎসাহিত করণের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের পুঁজি গঠনের লক্ষ্যে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছি। দরিদ্র-গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছেছে। অতিরিক্ত আরও ২৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ক্রমে পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ৪ সূত্র

শিক্ষাসহায়তা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবসর সুবিধা বোর্ড’-এর অনুকূলে পাঁচশত কোটি টাকার ‘এনডাওমেন্ট ফান্ড’ এবং ১০০ কোটি টাকার এককালীন অনুদান প্রস্তাব করছি। এছাড়া ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ অনুকূলে এককালীন পঞ্চাশ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। শিশুর বিকাশ সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশুর শারিরীক ও মানসিক বিকাশকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা জাতীয় শিশুনীতি, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করেছি।

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে ২০২১ সাল নাগাদ আরও ১৬ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, বর্তমানে ৭ হাজার ২৯৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৯টি বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে, ৬ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২০টি কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন এবং ৪ হাজার ৪৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি কেন্দ্র স্থাপন পরিকল্পনাধীন এছাড়া ব্যক্তিখাতে মহেশখালীতে আরও বিদ্যু কেন্দ্র স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইট ভিলেজ স্থাপনের ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েচে।  নির্মানাধীন ‘যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ ২০১৬ সালের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্যে ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করা যাবে বলে আশা করছি। পটুয়াখালী জেলায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ‘ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন’ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন ও বনভূমি সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব ইট ভাটার সম্প্রসারণে কিছু উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ বিকাশের সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব আইন, ২০১৫ অনুমোদন করেছি। যার ফলে পিপিপি বাস্তবায়নে কিছুটা গতিশীলতা আসবে। এরমধ্যেই প্রায় ১.৫ কিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ৬টি পিপিপি প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ বছর ৫টি প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হবে। তাছাড়া বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।  

  /এমএনএইচ/