রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকে নিয়োগে নানা অনিয়ম উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এক্ষেত্রে কোনও আবেদন না করে বা জীবনবৃত্তান্ত জমা না দিয়েও চাকরি পেয়েছেন অনেকে। ভুয়া পরীক্ষা ও ভুয়া সনদ দিয়েও চাকরি করার ঘটনাও ঘটেছে। অনেকক্ষেত্রে চাকরি পেতে বয়সও কোনও বাধা হয়নি।
বহুল আলোচিত এ ব্যাংকটির নিয়োগ নিয়ে ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের বিশেষ সরকারি নিরীক্ষায় অনিয়মের এসব ঘটনা উঠে এসেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৭২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আপত্তি দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি হয়েছে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর সময়ে।
এসব আপত্তির বিষয়ে জবাব না পেয়ে ২০১৫ সালে বেসিক ব্যাংককে তাগিদপত্র দেয় অডিট অধিদফতর। জবাব না পেয়ে একই বছর আধা-সরকারি পত্র জারি করা হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের জুনে তারা জবাব দিয়েছেন। কিন্তু জবাবগুলো সন্তোষজনক ছিল না। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ-পদোন্নতি দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দায় দায়িত্ব নির্ধারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়োগকারী অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর কাছ থেকে বেতন ভাতা বাবদ পরিশোধ করা অর্থ আদায় করা এবং নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটি এসব অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং যারা অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি ও পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কমিটির একাধিক সদস্য। পরে এসব অভিযোগ অধিকতর তদন্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে সরকারি হিসাব কমিটি।
সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, বোর্ড চাকরি দেওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু এখানে কিছু অনিয়ম হয়েছে। অনেকের যোগ্যতা ছিল না, বয়স বেশি ছিল। পদোন্নতিতেও অনিয়ম হয়েছে। যদি কোনও যোগ্যতা না থাকে তাহলে সেখানে মানবিকতা দেখানোর সুযোগ নেই।
তিনি জানান, সংসদীয় কমিটি এই অনিয়মগুলো আরও খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দিয়েছে। এই কমিটি অভিযুক্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয় আলাদাভাবে খতিয়ে দেখবে। কমিটিকে দুই মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলে তার ভিত্তিতে সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।