লক্ষ্য ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

বছরে চাই ৫০০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ

সেসিল ফ্রুম্যান২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য প্রবৃদ্ধির হার হতে হবে ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশ। বিনিয়োগের হার ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে নিতে হবে অন্তত ৩৩ শতাংশে।  বাড়তি বিনিয়োগের জন্য দরকার হবে সহজ আইনি কাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাণিজ্য ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিষয়ক পরিচালক সেসিল ফ্রুম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন।
সেসিল মনে করেন, এ বাড়তি বিনিয়োগের একটি বড় অংশই বিদেশি খাত থেকে আসতে হবে। কারণ এ ধরনের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর অন্তত পাঁচশ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে শুধু বিনিয়োগ করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন গুণগত বিনিয়োগ যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আইনি কাঠামো সহজীকরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা প্রায়শই লাল ফিতা বা প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ করে থাকেন। বাংলাদেশে এখনও কিছু আইন আছে যা শতাধিক বছরের পুরনো এবং এগুলোর সংস্কার প্রয়োজন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ শেয়ারহোল্ডারদের ইমেইল বা ফ্যাক্সেও মাধ্যমে জানানো যায় না। তাদেরকে চিঠির মাধ্যমে জানাতে হয়। এটি বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ অধিকতর সহজ হবে এবং ব্যবসায়ীক পরিবেশ উন্নতি হবে।

ফ্রুম্যান বলেন, বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ভালো করলেও টেক্সটাইল খাত তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা নির্ভরযোগ্য ও সহজ আইনি পরিবেশ চান। সহজ আইনি পরিবেশ তৈরির জন্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।

গত আট বছরে ৫৩টি আইনি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ২৩টি নতুন আইন বা সংশোধনের জন্য আইএফসি সহায়তা দিয়েছে এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২০০০ কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে।

এ ছাড়া ইতোমধ্যে আইএফসি ২৩টি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩,৫০০কোটি টাকাবিনিয়োগেসহায়তাকরেছে।

সেসিল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের উন্নতির অংশীদার হতে চাই এবং এরজন্য আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।’

/এসএসজেড/এফএস/এফএ/