বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, রাজনৈতিক শক্তির জন্য মানুষের আস্থা অর্জন খুবই প্রয়োজন। নাম উল্লেখ না করে একটি দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হঠাৎ কমে গিয়েছিল। কিন্তু কমার কোনও কারণই ছিল না। পরে দেখা গেলো যে সেখানে রাজনৈতিক শক্তির প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘বাঙলার পাঠশালা’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। উন্নয়ন নীতি নিয়ে ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম
কৌশিক বসু বলেন, বাংলাদেশ সময়মতো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণের জন্য গেছে। সময়মতো আইএমএফের কাছে না গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারতো। শ্রীলঙ্কা তা পারেনি, সে জন্য তারা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
সাংবাদিকেরা কৌশিক বসুর কাছে নানান বিষয়ে মতামত জানতে চান, যার মধ্যে একটি ছিল আইএমএফের কাছ থেকে নেওয়া ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ ও ঋণের শর্ত প্রসঙ্গ।
আইএমএফের শর্তের কারণে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে হয়। এতে মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এ প্রসঙ্গে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, সারা জীবন এই ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। আবার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে অরক্ষিত, তাদের কথা ভাবতে হবে, সংস্কারও করতে হবে।
আইএমএফের শর্তের প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালে ভারতের একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ দিয়ে ১৩ দিনের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো অবস্থা ছিল। সেই অবস্থায় ভারত আইএমএফের দ্বারস্থ হয়। তারা সহায়তা করলো। তবে ভারত তখন খুব ভালোভাবে সংস্কার করেছে। দুই বছর পর ভারত আইএমএফকে বলল, বাকি অর্থের প্রয়োজন নেই।
কৌশিক বসু বলেন, বাংলাদেশের পক্ষেও ভালোভাবে সংস্কার করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। ভর্তুকি প্রত্যাহার করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য আপদকালীন কিছু করতে হবে। তাহলে তারা মনে করবে, সরকার তাদের জন্য কিছু করছে। অর্থাৎ ভারসাম্য রাখতে হবে। বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত (মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির বিপরীতে কর আদায়ের অনুপাত) ১৪-১৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব- যা এখন ১০ শতাংশের নিচে।