দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকসহ শীর্ষ কয়েকটি খাতে মন্দার প্রভাব দেখা গেছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৪০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কম।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমে সাময়িক ধীরগতির কারণে কিছু খাতে রফতানি কমে থাকতে পারে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশের রফতানি আয় ছিল প্রায় ৪০১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে মে মাসে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৯ কোটি ডলার। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে রফতানি হয়েছিল প্রায় ৪৭৪ কোটি ডলার, সেখানে এবার আয় কমেছে প্রায় ৩৪ কোটি ডলার।
পোশাক খাতে ৮ শতাংশের বেশি রফতানি কমেছে
দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু মে মাসে এ খাতের রফতানি আয় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
মে মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাত থেকে এসেছে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।
গত বছরের একই মাসে পোশাক খাতের রফতানি আয় ছিল প্রায় ৩৯২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতের রফতানি কমেছে ৮ শতাংশেরও বেশি।
চামড়া ও কৃষিপণ্যেও নেতিবাচক প্রবণতা
মে মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ খাতের রফতানি ছিল প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ডলার। ফলে রফতানি কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
অন্যদিকে কৃষিপণ্য র রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার, যা গত বছরের মে মাসের ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।
উজ্জ্বল পাট ও হোম টেক্সটাইল খাত
রফতানির নেতিবাচক চিত্রের মধ্যেও পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মে মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু পাট সুতা রফতানি থেকেই এসেছে প্রায় ৫ কোটি ডলার।
হোম টেক্সটাইল খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে এ খাত থেকে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করে ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রফতানি করে ২ কোটি ৯২ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
১১ মাসে রফতানি কমেছে আড়াই শতাংশ
সামগ্রিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের মোট পণ্য রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ফলে সামগ্রিক রফতানি আয় কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে ৪৭৭ কোটি ডলারের রফতানি হয়েছিল এবং প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে এরপর টানা কয়েক মাস রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রফতানি কমেছে।
তবে এপ্রিল মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই মাসে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি ছিল। যদিও মে মাসে রপ্তানি আয় এপ্রিলের তুলনায় বেড়েছে, তবু প্রধান রফতানি খাতগুলোতে প্রত্যাশিত গতি ফিরে না আসায় সার্বিক রফতানি চিত্র এখনো চাপের মধ্যেই রয়েছে।









