বাণিজ্যে ঘাটতি ১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা

রফতানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী এবং আশানুরূপ রেমিট্যান্সের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সহায়তাও তুলনামূলক কম। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। এই ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। একই সময়ে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেরও বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৫ হাজার ৩৯৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এ সময় রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৯৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য। এতে ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৩০ লাখ (১৪ দশ‌মিক ৬১ বি‌লিয়ন) ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১০৮ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।

মার্চ শেষে সেবা খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৬৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে সেবার পেছনে দেশের ব্যয় হয়েছে ৯৪০ কোটি ডলার। সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ২৭৯ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত সামগ্রিক লেনদেনের (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১৬ কোটি ডলার। এই সূচকে আগের বছর একই সময় ঘাটতি ছিল ৩০৯ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১ হাজার ৬০৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৫২৯ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অবশ্য দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই-‌মার্চ সময়ে বাংলাদেশ যেখানে ৩৫৩ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৩৭৮ কোটি ডলারে উঠেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সরাসরি মোট যে বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে নিট এফডিআই বলা হয়। আলোচিত সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। এই সূচকটি আগের বছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ১৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার হয়েছে। গত অর্থবছর একই সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৬৩ কোটি ডলার। একই সঙ্গে আলোচিত সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থা অব্যাহত আছে।