প্রথমবার রিটার্নে ন্যূনতম কর ১ হাজার টাকা, জুলাই-সেপ্টেম্বরে দিলে থাকছে ছাড় 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম করের বিশেষ সুবিধা বহাল রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের ন্যূনতম কর দিতে হবে মাত্র ১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বিদ্যমান করদাতাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ৫ হাজার টাকা বহাল থাকবে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। তবে প্রতিবছর মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন। নতুন করদাতাদের কর ব্যবস্থায় উৎসাহিত করতেই ন্যূনতম করের এই বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

নতুন অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর বেশি করযোগ্য আয়ের প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং এর বেশি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তির বার্ষিক করযোগ্য আয় যদি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দাঁড়ায় ২ হাজার টাকা। কিন্তু বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী তাঁকে ন্যূনতম কর হিসেবে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে তিনি যদি প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করেন, তাহলে মাত্র ১ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিলেই হবে।

সারা বছরই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ

চলতি অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলে বড় পরিবর্তন এনেছে এনবিআর। এখন থেকে বছরের যেকোনো সময় অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে আগে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন।

নতুন বিধান অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ কর ছাড় মিলবে।

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত কোনো ছাড় বা জরিমানা থাকবে না; নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে।

অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ অথবা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, তা পরিশোধ করতে হবে।

এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ অথবা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, সারা বছর অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ এবং সময়ভিত্তিক কর ছাড়ের ব্যবস্থা করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন দিতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর কম রাখার সিদ্ধান্ত করজাল সম্প্রসারণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে এনবিআর।