নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনও ধরনের হেয়ারকাট না থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের সাক্ষাৎকালে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনও ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। এ কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাদের মুনাফার ওপর কোনও ধরনের হেয়ারকাট করা হবে না।
এছাড়া গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে আগামী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করতে পারবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তিন নির্দেশনার ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা কাটবে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর পথ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।