ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচিতে হামলা, গ্রেফতারের দাবি

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং ব্যাংকে এস আলমের ‘অশুভ হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে সোমবার সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসূচি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া একটি পক্ষ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নুর নবী মানিক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ইসলামী ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দফা দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু আজকের হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এস আলম গ্রুপের অশুভ শক্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে হামলার সঙ্গে অবৈধ নিয়োগে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। পরে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।