স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অটোমেশনের বিকল্প নেই: ডিসিসিআই সভাপতি

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেছেন, একমাত্র অটোমেশনই পারে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য খাতে সকল প্রকার দুর্নীতি রোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে।

রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় রিজওয়ান রাহমান সমসাময়িক অর্থনীতি বিষয়ক ১০টি বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ২০২২ সালে ডিসিসিআই’র কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এ বছর ঢাকা চেম্বার সিএমএসএমই, বেসরকারি বিনিয়োগ ও এফডিআই, রফতানি বহুমুখীকরণ, সমুদ্র অর্থনীতি, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল এনগেজমেন্ট, কর ব্যবস্থাপনা এবং এলডিসি উত্তরণ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পূর্বে বাংলাদেশের করপোরেট কর হার আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যে তিনি বিদ্যমান করপোরেট কর ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ৫% ও ৭.৫% হারে ক্রমান্বয়ে হ্রাসের আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি উত্তরণের পর আমাদের রফতানিমুখী পণ্যের ওপর শুল্ক হার বর্তমানের চেয়ে ৬-৭% বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে এখন থেকেই আমাদের পণ্যের বহুমুখীকরণের সঙ্গে সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণের ওপর মনোযোগী হতে হবে। এছাড়া রফতানি বৃদ্ধিতে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের প্রতি আমাদের আরও মনোযোগী হওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, কোভিড মহামারির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়টি আরও সহজীকরণ করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য আমাদের মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে কোনও বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

সমুদ্র অর্থনীতিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, আমাদের জিডিপিতে এখাতে অবদান রয়েছে ৩.১% এবং এ সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য একটি কার্যকর রূপকল্প প্রণয়ন দরকার।

রিজওয়ান রাহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বেশ প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে, এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি পিটিএ এবং এফটিএ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেগোশিয়েশনের দক্ষতা আরও বাড়ানো অতীব জরুরি, সেই সঙ্গে এফটিএ’র ওপর আমাদের অধিক হারে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিশেষ করে বিদ্যমান করকাঠামোর প্রতিবন্ধকতা নিরসন ও যুগোপযোগীকরণ, ক্রস-বর্ডার বাণিজ্য সম্প্রসারণে নীতি সহায়তা প্রদানের ওপর জোরারোপ করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে আমাদের বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ডিজিপি’র ২১.২৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে এডিআই’র পরিমাণ ছিল ২.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এমতাবস্থায় বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এফডিআই বৃদ্ধিতে করপোরেট কর কাঠামোর সংস্কার, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে সকল ধরনের সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আরমান হক এবং সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।