ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি আরদাশির কবির এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রাইভেট সেক্টর ওয়ার্কিং কমিটি (বিপিএসডব্লিউসি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার (২৮ মে) বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ে এই কমিটি প্রতিষ্ঠার জন্য আনুষ্ঠানিক সই করা হয়।
সই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধিসহ বেসরকারি খাতের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পৌটিয়াইনেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, এফবিসিসিআই’র সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ, বাণিজ্য ও ট্যারিফ নীতির উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ এবং বিইএফ-এর মহাসচিব ফারুক আহমেদ।
বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এই কমিটি বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে দেশের বেসরকারি খাতকে সহায়তা করবে।
বিপিএসডব্লিউসি প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়াইন লুইস জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত ‘২০২২-২০২৬ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্কের’ (ইউএনএসডিসিএফ) কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নকে এই কমিটির কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে টেকসই উন্নয়নের এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
‘যখন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কথা আসে, তখন বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের এখানে অনেক কিছু করণীয় আছে। যা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে অন্যদের সম্পৃদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের জন্যও লাভজনক। এসডিজি এবং ২০২৩ সালের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অপরিহার্য। বাংলাদেশ তখনই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে, যখন বেসরকারি খাত এই লক্ষ্যে তাদের ভূমিকা পালন করবে। তাই বাংলাদেশ প্রাইভেট সেক্টর ওয়ার্কিং কমিটি গঠনকে আমি স্বাগত জানাই,’ বলেছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিপিএসডব্লিউসি- কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এবং বিপিএসডব্লিউসি’র চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি এবং বিপিএসডব্লিউসি’র কো-চেয়ারম্যান আরদাশির কবির তাদের মতামত বক্তব্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে আইএলওর’ কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পৌটিয়াইনেন এবং বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এই কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘জাতিসংঘের সংস্থাগুলো দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য তাদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিপিএসডব্লিউসি-এর সঙ্গে একত্রে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথকে মসৃণ করবে।
বিপিএসডব্লিউসি কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশ বেসরকারি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির ১৯ জন প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করা হয়েছে, একইসঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী বা জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অতিথি বা পর্যবেক্ষক হিসেবে কমিটির চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে বিপিএসডব্লিউসি’র সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।