৮ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ৩০ শতাংশ, ব্যয় কমেছে ৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই–ফেব্রুয়ারি) উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের একই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় কমেছে চার হাজার ২২৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। প্রথম আট মাসের হিসাবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পগুলো নতুন করে যাচাই–বাছাই এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা কমেছে।

কিছু মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন খুবই কম

আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থবছরের আট মাস পার হলেও পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ১০ শতাংশও ব্যয় করতে পারেনি। এগুলো হলো—সংসদবিষয়ক সচিবালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), জননিরাপত্তা বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সংসদবিষয়ক সচিবালয়। সংস্থাটির একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও আট মাসে এক টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। ফলে অর্থবছরের শেষদিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়।