দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টি বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকা সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে।
তালিকায় থাকা এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপ: এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড, কেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং মুরাদ এন্টারপ্রাইজ ও কর্ণফুলি ফুডস (প্রাইভেট) লিমিটেড(এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট)।
এস আলম গ্রুপ বর্তমানে অর্থনৈতিক অনিয়ম ও ব্যাঙ্কিং খাতে ‘ব্যাংক দখল’ সম্পর্কিত অভিযোগের সঙ্গে তদন্তের মুখোমুখি। গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম একাধিক অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের সম্মুখীন।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রুপটি সন্দেহজনক পদ্ধতিতে একাধিক বেসরকারি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকও রয়েছে। এছাড়া, শেল কোম্পানি ও জামানতবিহীন ঋণের মাধ্যমে তারা শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট সৃষ্টি করেছে। গ্রুপের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের অর্থ পাচার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া অফশোর সম্পদ অর্জনের বিষয়েও তদন্ত চলমান।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, খেলাপি অর্থ পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ গ্রুপের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে।