সরকারকে নীতিগত সহায়তা সনদ দেবে বিজিএমইএ

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা দেওয়া ধারাবাহিক রফতানি পতনের কারণ খুঁজে দেখতে জরুরি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বৈঠকে খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার একটি ‘চার্টার অব পলিসি সাপোর্টস’ শিগগিরই সরকারের কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রফতানি আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণ এবং তা থেকে উত্তরণের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সভায় উঠে আসে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া এবং তা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। পাশাপাশি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, নতুন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নীতিগত সুবিধাও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা নীতিগত সহায়তা সনদে ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনামূলক অবস্থান বিশ্লেষণ করা হবে। সেখানে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বিদ্যমান সুবিধা, সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত ঘাটতিগুলো তুলে ধরা হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এলডিসি উত্তরণকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার সুপারিশ নিয়ে একটি চার্টার সরকারের কাছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ সনদের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রফতানি সম্প্রসারণে সহায়ক নীতিমালা গ্রহণের বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট সুপারিশ জানানো হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও পরিবর্তিত বাণিজ্য বাস্তবতার মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।