প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর বা অগ্রিম করের হার দ্বিগুণ করে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল লাখো মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগী আগের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাবেন।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অর্থবিল-২০২৬ অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় এখন থেকে ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। এর আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো এবং সেটিকেই চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করা হতো। নতুন প্রস্তাবে সেই ব্যবস্থা বাতিল করে উৎসে কর্তিত করকে ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের আওতায় চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো— পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র।
পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই বিনিয়োগ করতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে মেয়াদভেদে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বার্ষিক মুনাফার হার বর্তমানে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি ১ লাখ টাকার বিপরীতে একজন বিনিয়োগকারী মাসে মুনাফা পান প্রায় ৯৯৪ টাকা।
এতদিন ৫ শতাংশ কর কাটার পর হাতে থাকত প্রায় ৯৪৫ টাকা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ১০ শতাংশ কর কেটে নেওয়ার ফলে হাতে পাওয়া অর্থ নেমে আসবে ৯০০ টাকারও নিচে। অর্থাৎ একই বিনিয়োগে মাসিক আয় আরও কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহিণী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। তাদের অনেকেই নিয়মিত মুনাফার অর্থ দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটান। ফলে করের হার বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়বে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, অর্থবিল-২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এতদিনের চূড়ান্ত কর দায়ের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে।
এর ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ কর কেটে রাখা হলেও বছর শেষে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় প্রকৃত কর দায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। যদি কোনো করদাতার কাছ থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর কেটে রাখা হয়, তাহলে তিনি ফেরতের আবেদন করতে পারবেন।
এনবিআর জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।