ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান আবারও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলারের মাধ্যমে এসএমএআরটি (সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল) ও নির্ধারিত মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার ব্যবস্থা চালুর সময় ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ৮ মে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু হলেও ইন্টারমেডিয়েশন স্পেডের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি নির্ধারণ করছে। ফলে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প খাত এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে। তবে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে এই ৪ শতাংশ সীমা প্রযোজ্য হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্দেশনার ফলে ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদহার নির্ধারণে আরও সতর্ক হতে হবে। একই সঙ্গে আমানত ও ঋণের সুদহারের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবধান কমে এলে শিল্প ও ব্যবসা খাতের ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে এবং বিনিয়োগ পরিবেশও ইতিবাচক প্রভাব পেতে পারে।