খেলাপির টাকা কি ফেরত আসবে

১৮ মাসের পরিকল্পনায় কতটা বদলাবে ব্যাংক খাত?

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন খেলাপি ঋণ। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ব্যাংকের নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে, কোথাও কোথাও আমানত ফেরত দিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা কি আদৌ আবার ব্যাংকে ফিরে আসবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে, অন্যদিকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ঘোষণা করেছেন—১৮ মাসের একটি সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় রয়েছে— সুদ মওকুফ, সহজ এক্সিট পলিসি, দ্রুত বিচার, নতুন আইন এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের কাঠামো।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু নীতিমালা ঘোষণা করলেই হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—এসব নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখা যায় কিনা।

খেলাপি ঋণের পাহাড়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ বলছে—খেলাপি, পুনঃতফসিল এবং অবলোপন করা ঋণ মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংকের বাইরে আটকে থাকায় নতুন শিল্পে ঋণ দেওয়া, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে তারল্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুদ মওকুফ করে মূল টাকা ফেরানোর কৌশল

এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বিশেষ এক্সিট’ সুবিধা চালু করেছে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব ঋণ ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ হিসেবে শ্রেণিকৃত হয়েছে, সেসব ঋণগ্রহীতা যদি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এককালীন মূল ঋণ পরিশোধ করেন, তাহলে তাদের সব ধরনের আরোপিত ও অনারোপিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা যাবে।

এর আগে সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) আদায়ের বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন নীতিমালায় সেই শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তি হলো—দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ঋণ থেকে অন্তত মূলধন উদ্ধার করা গেলে ব্যাংকের তারল্য বাড়বে, নতুন করে ঋণ বিতরণ সম্ভব হবে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে।

কেন এই ছাড়?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সব খেলাপি ঋণ একই ধরনের নয়। অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক মন্দা, বাজার সংকট, উচ্চ সুদের চাপ কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তাদের ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা এখনও রয়েছে।

এমন ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি শেষ সুযোগ তৈরি করতেই এই বিশেষ এক্সিট নীতি আনা হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি, কটেজ, ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প (সিএমএসএমই) খাতকে এই সুবিধায় অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এ বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা খেলাপি ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ আদায় করতে পারবে। আদায়কৃত অর্থ পুনরায় উৎপাদনশীল খাতে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, খেলাপিদের জন্য সুদ মওকুফ বা ছাড়ের সুযোগ তৈরি হলেও সময়মতো কিস্তি পরিশোধকারীরা কোনও ধরনের প্রণোদনা পাচ্ছেন না। এতে সুশৃঙ্খল ঋণগ্রহীতারা নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা।

একটি বেসরকারি কোম্পানির একজন উদ্যোক্তা ও সাবেক ব্যবসায়ী নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা নিয়মিত সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করি এবং পুরো সুদই দিই। কিন্তু যারা বছরের পর বছর ঋণ পরিশোধ করেননি, তাদের জন্য সুদ মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে নিয়ম মেনে চলা গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।”

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাতের আটকে থাকা খেলাপি ঋণ আদায় এবং তারল্য বাড়ানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণে বিশেষ পরিস্থিতিতে সুদ মওকুফের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অচল হয়ে থাকা ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।’’

তিনি বলেন, ‘‘যেসব প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং পুনরায় ব্যবসায় ফেরার বাস্তব সম্ভাবনা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফ করে ‘এক্সিট’ বা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হলে ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থের একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে অচল প্রতিষ্ঠানের ঋণ হিসাবও নিষ্পত্তির পথে এগোবে, যা সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক।’’

তবে এই সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, কোনোভাবেই যেন অসাধু বা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এই সুযোগের অপব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

যেসব ঋণগ্রহীতা নিয়মিতভাবে ঋণ পরিশোধ করেছেন, তাদের জন্য একই ধরনের সুবিধা না থাকাকে অনেকে বৈষম্য হিসেবে দেখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন মহিউদ্দিন রুবেল। তবে তার ভাষ্য, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থ পুনরুদ্ধার করা। সেই বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কার্যকর বিকল্পও খুব বেশি নেই।

১৮ মাসের সংস্কার পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম ছয় মাসের নীতিমালা ইতোমধ্যে জারি হয়েছে। পুনঃতফসিলকে নিরুৎসাহিত করে সহজ করা হয়েছে এক্সিট পলিসি। আগামী বছরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন আনার প্রস্তুতি চলছে।’’

এর মধ্যে রয়েছে—অর্থঋণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট—যার মাধ্যমে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের খারাপ ঋণ বিশেষায়িত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার, আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএফআরএস-নাইন অনুযায়ী এক্সপেকটেড ক্রেডিট লস পদ্ধতি চালু, ব্যাংকের মন্দ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো, ডিজিটাল পেমেন্ট ও আন্তব্যাংক লেনদেন আরও সমন্বিত করা।

গভর্নরের ভাষায়, ব্যাংকের ব্যালান্স শিটে বছরের পর বছর টক্সিক অ্যাসেট রেখে প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে আড়াল করা যাবে না।

কারা পাবেন এই সুবিধা, কী কী শর্ত মানতে হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ঋণ ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কেবল সেসব ঋণগ্রহীতাই সুদ মওকুফের এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

ব্যাংকিং বিধিমালা অনুযায়ী, কোনও ঋণের কিস্তি বা মেয়াদোত্তীর্ণ অর্থ ৯০ দিন বা তার বেশি সময় পরিশোধ না হলে সেটি খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। আর খেলাপি হওয়ার পর কোনও ঋণ এক বছর বা তার বেশি সময় আদায় না হলে তা ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে স্থান পায়। সাধারণভাবে এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই কম বলে বিবেচিত হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ জুনের পর যেসব ঋণ এই শ্রেণিতে যাবে, তারা আপাতত এই সুবিধার আওতায় আসবে না। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতারাই কেবল আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

তবে সুদ মওকুফ কোনও স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে পর্যালোচনা করবে। ঋণগ্রহীতার আর্থিক অবস্থা, ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা, অতীতের লেনদেনের রেকর্ড এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিকতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যাচাই-বাছাইয়ে যদি দেখা যায় কোনও ঋণগ্রহীতা প্রকৃত আর্থিক সংকটের কারণে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন, কিন্তু ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, অতীতের লেনদেন সন্তোষজনক এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিকতা রয়েছে—তাহলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি সুদ মওকুফের সুবিধা পেতে পারেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘তবে এই সুবিধা পেতে হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। ঋণগ্রহীতাকে তার বকেয়া মূলধন এবং অতীতের সব আর্থিক দায় এককালীন বা ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে। সেই শর্ত পূরণ হলে সংশ্লিষ্ট ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত— উভয় ধরনের সুদই সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মওকুফ করার সুযোগ থাকবে।’’

টাকা কি সত্যিই ফেরত আসবে?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অর্থ অবশ্যই ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব উদ্যোক্তা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সুদের বোঝায় ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না, তারা এই সুযোগ নিতে পারেন। কিন্তু বড় করপোরেট খেলাপিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন।

গত এক দশকে যেসব বড় ঋণ অনিয়ম, জালিয়াতি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে, তার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। অনেক বড় ঋণগ্রহীতা দেশেও নেই। ফলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা সহজ হবে না। এ কারণে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সুদ মওকুফ দিয়ে খেলাপি ঋণের বড় অংশ উদ্ধার সম্ভব নয়।

সফলতার শর্ত কী

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, প্রকৃত ব্যবসায়িক সংকটে থাকা উদ্যোক্তা এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে আলাদা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী কোনও গোষ্ঠী যেন এই সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে। তৃতীয়ত, এটি এককালীন সুযোগ—এই বার্তা স্পষ্টভাবে দিতে হবে। ভবিষ্যতে বারবার একই ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীরাও খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। চতুর্থত, অর্থঋণ আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সম্পদ জব্দের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সুশাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান নয়

বাংলাদেশ ব্যাংক এবার শুধু ঋণ আদায়ের উদ্যোগেই থেমে নেই। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শক্তিশালী নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের হিসাব ব্যবস্থা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকেও জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে নতুন করে খেলাপি ঋণ তৈরির প্রবণতাও কমবে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা ব্যাংক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের উদ্যোগ। সুদ মওকুফের মাধ্যমে অন্তত আটকে থাকা মূলধনের একটি অংশ উদ্ধার করা গেলে ব্যাংকের তারল্য বাড়বে, নতুন ঋণ বিতরণ সহজ হবে এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার সব খেলাপি ঋণ ব্যাংকে ফিরে আসবে—এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কতটা স্বচ্ছভাবে নীতিমালা বাস্তবায়ন হয়, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত কার্যকর করা যায় তার ওপর।

সব মিলিয়ে, সুদ মওকুফ খেলাপি ঋণ সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়, এটি মূলধন উদ্ধারের একটি কৌশল মাত্র। আর সেই কৌশল সফল হবে কিনা, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসের বাস্তবায়নেই।