স্বর্ণের দাম ফের কমলো, ভরিতে সাড়ে ৩ হাজার 

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ককৃত স্বর্ণালংকারের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৩০ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ২৮৫ টাকা কম। সে হিসাবে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫১ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কম। 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের হলমার্ককৃত স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ১৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৫ হাজার ৬১০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রাম ১২ হাজার ৭৫৫ টাকা। 

স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যালংকারের দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যালংকারের দাম ৩৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম ২৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে। 

এর আগে গত ৬ জুলাই স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের হলমার্ককৃত স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৩১৫ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৭৫ টাকা, যা ৩ জুলাইয়ের নির্ধারিত দামের তুলনায় ৩ হাজার ২৮১ টাকা কম ছিল। 

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত ৮৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৩ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে এই মূল্য সমন্বয় করা হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।