বাংলা কিউআরসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্ট পর্যায়ে আরোপিত বিদ্যমান মাশুল (মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তাঁর মতে, দেশে নগদবিহীন লেনদেন বা ক্যাশলেস অর্থনীতিকে জনপ্রিয় করতে হলে শুরুতেই এসব লেনদেনকে সম্পূর্ণ মাশুলমুক্ত করতে হবে। পরে ধাপে ধাপে খুব সামান্য হারে, যেমন ১০ পয়সা করে মাশুল আরোপ করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বনানীতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্ট পর্যায়ে ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আরোপ করা হয়, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারে একটি বড় প্রতিবন্ধক। তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানে এ ধরনের লেনদেনে কোনো মাশুল নেই। ফলে বাংলাদেশেও এই মাশুল শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত। প্রয়োজনে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে এই ব্যয় বহন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিবছর প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা দিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। ওই বরাদ্দের একটি অংশ ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা হলে দেশে নগদবিহীন লেনদেনের প্রসার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও কম ব্যয়সাপেক্ষ হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনে ১ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আরোপের কারণে ১ হাজার টাকার লেনদেনে অতিরিক্ত ১০ টাকা ব্যয় করতে হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে বা প্রত্যাহার করতে পারলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বর্তমানে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় অনানুষ্ঠানিক বা হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসে এবং কেন অনেক প্রবাসী আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে বিকল্প পথ বেছে নেন, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করবে পিআরআই।
সমীক্ষার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার এবং পরিচালক এম এ রাজ্জাক। তাঁদের মতে, সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রবাসী আয় বাড়ানো এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার জন্য কার্যকর নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।