আয়কর প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো একজন নারী কর্মকর্তাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কর অঞ্চল-৪-এর কমিশনার সেলিনা সুলতানা।
একই সঙ্গে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ২২ জন কর কমিশনারের দফতর বদল ও পদায়ন করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিআইসির বর্তমান পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রকিবকে কর অঞ্চল-৮-এর কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আর কর অঞ্চল-৪-এর কমিশনার সেলিনা সুলতানাকে সিআইসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. লুৎফুন্নাহার বেগমকে কর অঞ্চল-১১-এর কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান।
এ ছাড়া কবির উদ্দিন মোল্লাকে কর অঞ্চল-৪, শহিদুল ইসলামকে কর আপিল অঞ্চল-৩ এবং নাজমা পারভীনকে কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলে পদায়ন করা হয়েছে।
রাজস্ব অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ সিআইসি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের রাজস্ব অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ, করসংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে এ সেলের ভূমিকা রয়েছে।
ফলে সিআইসির মহাপরিচালক পদে পরিবর্তনকে আয়কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে একজন নারী কর্মকর্তাকে প্রথমবারের মতো এই পদে দায়িত্ব দেওয়ায় বিষয়টি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
১২ কর্মকর্তা পেলেন কর কমিশনারের দায়িত্ব
এদিকে পৃথক আদেশে ১২ জন অতিরিক্ত কর কমিশনারকে চলতি দায়িত্বে কর কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই আদেশের মাধ্যমে তাদের দপ্তরও বণ্টন করা হয়েছে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ড. নুরুল আমিন, মাহবুবুল মোর্শেদ, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ নাঈমুর রসুল, এজেডএম নূরুজ্জামান, মো. মনিরুজ্জামান, আশরাফুল ইসলাম, সালেহীন সিরাজ, মোহাম্মদ শাহ আলম, মোসাদ্দেক হুসেন, মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাত এবং দুলাল চন্দ্র পান্ডে।
এনবিআরের এই রদবদলের ফলে আয়কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম ও রাজস্ব অপরাধ তদন্তে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।