দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের গহনার দাম। এবার সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৪০ টাকা বাড়িয়ে ২১ হাজার ২৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের গহনার দাম ২১ হাজার ২৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ২০ হাজার ২৮৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৭ হাজার ৪২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৪ হাজার ২২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভরি হিসেবে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৯ টাকা।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২১ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়লো।
গত ২০ আগস্টও ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। দুই দিনের ব্যবধানে ২২ আগস্ট আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ে। এরপর ২৫ আগস্ট আবারও দাম বাড়ানো হলো। ফলে পাঁচ দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট প্রায় ১১ হাজার টাকা বেড়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য—
২২ ক্যারেট: ২১ হাজার ২৪০ টাকা
২১ ক্যারেট: ২০ হাজার ২৮৫ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১৭ হাজার ৪২০ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১৪ হাজার ২২৫ টাকা
স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের গহনার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ৪৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪৫০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
এছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের গহনা বিনিময় এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এই দাম কার্যকর থাকবে।