সংসারের হিসাব মেলাতে নিত্যদিনের খরচে কাটছাঁট

সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। নিত্যপণ্যের এই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামে বেড়েছে দৈনন্দিন ব্যয়। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেকেই কাটছাঁট করছেন প্রয়োজনীয় কেনাকাটায়, বাদ দিচ্ছেন পছন্দের খাবার কিংবা আপোস করতে হচ্ছে মানের দিকে থেকে। ফলে নিত্যদিনের চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষকে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ কাঁচাবাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় আজকের বাজারের চিত্র। 

পেঁপে ছাড়া সব সবজি ৫০ টাকার ওপরে

শুধু পেঁপে বাদ দিলে আজকের বাজারে সবচেয়ে কম দামের সবজি মিষ্টি কুমড়া, প্রতি কেজি ৫০ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো, প্রতি কেজি ২২০ টাকা।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ২২০, দেশি গাজর ১০০, চায়না গাজর ১২০, নতুন আলু ১৬০, বেগুন (লম্বা) ৮০ থেকে ১০০, বেগুন (সাদা গোল) ১০০, বেগুন (কালো গোল) ১৪০, শিম ১৪০-১৬০, দেশি শসা ১০০, উচ্ছে ৮০, করল্লা ৮০, কাকরোল ৮০, ঢেঁড়স ৮০, পটল (হাইব্রিড) ৮০, পটল (দেশি) ১০০, চিচিঙ্গা ৭০, ধুন্দল ৭০, ঝিঙা ৮০-১০০, বরবটি ৮০, কচুর লতি ৮০, মূলা ৬০, কচুরমুখী ৬০-৮০, কাঁচা মরিচ ১২০- ১৪০, ধনেপাতা ২৪০, হাইব্রিড শসা ৬০, পেঁপে ২০-৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০-৮০, চালকুমড়া ৫০, ফুলকপি ৬০ ও বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ও লেবু ৪০ টাকা।

বাজার করতে আসা জাহিদ হোসেন বলেন, সবকিছুর যে দাম, আমরা যারা চাকরি করি তাদেরতো সমস্যা বেশি। কারণ আমাদের মাস শেষে নির্দিষ্ট টাকা আসে। ওই টাকার মধ্যেই হিসাব করে চলতে হয়। তাই ১০ টাকা দাম বাড়লেও আমাদের সমস্যা হয়। কারণ মাস শেষে ওটা আমাদের চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে কম্প্রোমাইজ করে চলতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে কী হবে আমার জানা নেই। 

রিকশাচালক সাইমন বলেন, একসময় আমি একশ টাকার বাজার করলে অনেক কিছু কিনতে পারতাম। এখন সেটা হয় না। একটা তরকারির দামই একশ টাকার ওপরে। আর আগেতো দিনের বেলা বাজার করতাম, এখন করি সন্ধ্যার পরে। তাও বাজারের বাইরে রাস্তায় যারা বসে তাদের থেকে। কারণ সন্ধ্যার পরে ওইখানে কম দামে তরি-তরকারি পাওয়া যায়। বাজারের মতো অতটা ভালো না হলেও একদম নষ্ট জিনিস থাকেনা, দেখে কিনতে হয়। 

এদিকে সবজির দাম কমে আসছে জানিয়ে বিক্রেতা মো. রুবেল বলেন, বেশ কিছু সবজির দাম কমে এসেছে। আরও কমে যাবে। যেমন শিম ছিলো দুইশ টাকা, সেটা দেড়শতে নেমে এসেছে। কয়দিন পরে আরও কমে আসবে। 

স্বস্তি আছে আলু-পেঁয়াজে, দাম বেড়েছে আদা-রসুনের

আলু-পেঁয়াজের দামে স্বস্তি থাকলেও আদা-রসুনের বাজার বাড়তির দিকে। চায়না আদার দাম কেজিতে ১০ টাকা ও চায়না রসুনের দাম মানভেদে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 

আজকে আকার ও মানভেদে  হাইব্রিড পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায় ও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতি কেজি লাল আলু ৩০ টাকা, সাদা আলু ৩০ টাকা,  বগুড়ার আলু ৪০ টাকা, দেশি রসুন ৯০-১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৭০-১৯০  টাকা, চায়না আদা ১৫০-১৬০  দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বিক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, আদা রসুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। এটা আসলে যারা আমদানি করে তারাই বাড়ায়। আমরা যে দামে কিনি সেটাই বিক্রি করি। 

ডিম-মুরগির দাম এখনও বাড়তি

আজকে বাজারে প্রতি কেজি মুরগি (পোল্ট্রি) ১৭৫-১৯৫ টাকা, মুরগি (কক) ২৯৮-৩১০ টাকা, মুরগি (লেয়ার) ৩৪০-৩৫০ টাকা, মুরগি (দেশি) ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২৫০ টাকা কেজি।  আর প্রতি ডজন মুরগির ডিম (লাল) ১৪০-১৪৫ টাকা এবং ডিম (সাদা) ১৩৫-১৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।সহিদ ডিম ঘরের বিক্রেতা সামিউল ইসলাম বলেন, এই সময়ে ডিমের দাম কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও কমেনি। সব আসলে বড় বড় কোম্পানির হাতে আটকা। 

এছাড়া আজকের বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী রুই মাছ ৩৫০-৬০০, কাতল মাছ ৩৫০-৫৫০, কালিবাউশ ৫০০-৮০০, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৬০০, কাঁচকি মাছ ৫০০, কৈ মাছ ২২০-২৫০, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০, বাতাসি মাছ ১৪০০-১৬০০, কাজলি মাছ ১৩০০-২০০০, শিং মাছ ৪০০-১২০০, টেংরা মাছ ৬০০-১০০০, মেনি মাছ ৭০০-৮০০, বেলে মাছ ৮০০- ১২০০, বোয়াল মাছ ৭০০-১২০০ , রূপচাঁদা ১২০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

স্বস্তি ফেরেনি মুদি পণ্যেও 

আজকে প্রতি কেজি পোলাওয়ের চাল (প্যাকেট) ২৩০, পোলাওয়ের চাল (খোলা) মান ভেদে ১৬০-২০০, দেশি মুসরের ডাল ১৪০-১৫০, হাইব্রিড মুসরের ডাল ৯০, হাইব্রিড মুগ ডাল ১৪০, দেশি মুগ ডাল ১৭০, খেশারি ৮৫, বুটের ডাল ১২০, ছোলা ১০৫, মাশকালাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪, খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ (১ কেজি), ঘি  ১৪০০, চিনি ১১০, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৭০, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৪০, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৫৪০০, দারুচিনি ৫০০, লবঙ্গ ১৪০০, গোল মরিচ  ১৩০০, জিরা ৫০০, কাজু বাদাম ১৪০০ টাকা, কাঠ বাদাম ১৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।