জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আর্থিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন ঋণসহায়তা পেতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু চলমান প্রকল্প বা বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি খাতের সংকটসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয় সামাল দিতেও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নতুন ঋণ পেতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা

এদিকে চলতি অর্থবছরের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন ঋণসহায়তা পেতে আইএমএফের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কায় বহুজাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে অর্থায়নের বিষয়টি সরকারের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্যাংককে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার অথবা বুধবার আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন ঋণসহায়তার পরিমাণ, শর্ত কিংবা আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কর্মসূচির আওতায় ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৮০ কোটি ডলার পেয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই ওই ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে নতুন ঋণসহায়তার জন্য আইএমএফের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ।

৪০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তার লক্ষ্য

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি ব্যাংককে এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান বলে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাজেট এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়া গেলে সরকারের ব্যয় সামলানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে। তবে নতুন ঋণসহায়তার পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের সময় এবং সম্ভাব্য শর্ত সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয়

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মোকাবিলা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমানো এবং বাজেটের ওপর চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কাছ থেকে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যায়, এখন সেদিকেই নজর সরকারের।