গ্যাসের কারণে কমদামে বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা। গ্যাস ফুরিয়ে গেলে কয়লা আমাদের সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করতে পারতো। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশীয় কয়লা থেকে সরে থাকা নীতি আত্মঘাতি হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন জরুরি। দেশীয় গ্যাসের বিষয়েও জোর দেওয়া দরকার।
শনিবার (২ জানুয়ারি) এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার আয়োজিত ‘২০২১ সালের এনার্জি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমন মতামত উঠে এসেছে। সেমিনার সঞ্চালনা করেন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারে প্রধান উপদেষ্টা জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারি প্রফেসর ম. তামিম বলেন, ভারতের কাছ থেকে আমরা বিদ্যুৎ নিচ্ছি। তাদের পাইকারি বাজার থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া গেলে আরও সাশ্রয়ী দামে আমরা বিদ্যুৎ পেতে পারি। এক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। তিনি বলেন, পায়রা হাব, মাতারবাড়ি হাব হচ্ছে, সেখানে অটোমেডেট সঞ্চালন সিস্টেম হতে হবে। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসলেও নিতে পারবো না। একটি পয়েন্ট থেকে ১০ শতাংশের বেশি নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
তামিম বলেন, সরকার বলে দিয়েছে ৮ হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরিয়ে দিবে। আড়াই থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট এখন গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এইসব কিছুর জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমদানি নির্ভরতা একটি প্রভাব ফেলছে দেশের জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশ যদি বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারি, তাহলে আমদানি নির্ভরতা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না। তিনি বলেন, সঞ্চালন বিতরণে প্রাইভেট সেক্টরকে দেওয়া দরকার। এ খাতে এখন দরকার স্বচ্ছতা এবং কোনও ঝুঁকি যাতে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কয়লা ব্যবহার না করার কারণে বিদ্যুতের দাম বেশি পড়ছে। কয়লা নিয়ে কথাও হচ্ছে না। ২০ বছর পরে হয়তো কেউ কয়লা তুলতে পারবে না। তাই দেশীয় সম্পদের বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। এসবক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পিছিয়ে রয়েছি।
বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, আমরা এখন নিরবিচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুতের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। চলতি বছরেই ৫০ শতাংশ অটোমেশন হবে। সবাই কোয়ালিটি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে। তিনি বলেন, আমরা সময়ের প্রয়োজনে ক্যাপটিভ পাওয়ার পলিসি, স্মল পাওয়ার, মার্চেন্ট পাওয়ার এবং আইপিপি পাওয়ার জেনারেশন পলিসি করেছি। সবগুলো মিলে একটি সমন্বিত পাওয়ার জেনারেশন পলিসি নিয়ে কাজ করছি। আমরা চাই সঞ্চালনেও প্রাইভেট কোম্পানি আসুক। নতুন পলিসিতে এসব বিষয় উন্মুক্ত থাকবে।
পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ক্যারিয়ার ডেভেলপ এই মুহূর্তে এটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ট্রেনিং দিতেই হবে, তারা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারে।
বিপ্পার প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম বলেন, আমাদের ১৫-১৭’শ মেগাওয়াট রয়েছে অনেক পুরনো বর্তমানে যুগের বিবেচনায় প্রকৃত পক্ষে এগুলো আর চলে না। ক্যাপটিভ ও অন্যান্য বাদ দিলে প্রকৃত পক্ষে ১৫ হাজার মেগাওয়াট দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সঞ্চালন ও বিতরণেও প্রাইভেটাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সঞ্চালনের পলিসিতে বিতরণও যুক্ত হতে পারে।
/এসএনএস/এফএএন/