আগামী অক্টোবরে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে প্রস্তুত বাগেরহাটে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র (মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট)। এরই মধ্যে চলতি মাসের ১৫ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। সে দিন মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের ইউনিট-১ এ ৯১ দশমিক ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর দুই মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা খরচে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে ৬৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রকল্প পরিচালক সুভাষ চন্দ্র পান্ডে জানিয়েছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাপোর্টিং যত ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে, সবই প্রস্তুত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের আগেই পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট-১ এর নির্মাণ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এই সফরকে কেন্দ্র করে কাজও এগিয়ে চলছে পুরোদমে। এই সফরে অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে এই প্রকল্পটিও উদ্বোধন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন দুই দেশেরই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোমবার (২৯ আগস্ট) প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজ দ্রুতই এগিয়ে চলছে। কয়লা মজুতের জন্য চারটি শেড বানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি শেডে কয়লা মজুত রাখা হয়েছে। আরেকটি শেডের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যগুলোর কাজও এগিয়ে চলছে। এছাড়া উৎপাদন থেকে শুরু করে বিতরণ লাইনের কাজের বিষয়গুলো তদারকিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দায়িত্বরতরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কয়লা আমদানি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আমদানির আওতায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা এরই মধ্যে চলে এসেছে। আরও দুটি জাহাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কয়লা আমদানি এবং চুক্তির বিভিন্ন বিষয় কিছুটা সময় সাপেক্ষ হবে। আমাদের মূল কনসার্ন হচ্ছে কয়লা হ্যান্ডেলিং করার বিষয়টি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশগত প্রভাব রোধে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির সঙ্গে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। বায়ু এবং পানি দূষণ কমানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের জন্য কোনও ক্ষতি না হয়— সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখে শুরু থেকেই এই প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। বায়ু এবং পানি দূষণ কমানোর জন্য একটি ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজেশন সিস্টেম— যার মধ্যে সালফার অক্সাইডের নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনও বাইপাস নেই। দূষণ এড়ানোর জন্য থাকছে সমন্বিত বর্জ্য এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম। পশুর নদীর দূষণ, ফ্লু গ্যাস নির্গমনের বিস্তৃত বিচ্ছুরণের জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু চিমনি নির্মাণ (২৭৫ মিটারে), কয়লার জন্য একটি অগ্রিম জাহাজ আনলোডার নির্মাণের পাশাপাশি একটি সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত কয়লা স্টক ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। উচ্চ গ্রেড আমদানি করা হয়েছে, যেখানে ছাই এবং সালফার সামগ্রীসহ কয়লার অন্যান্য ব্যবস্থাগুলো রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক সুভাষ চন্দ্র পান্ডে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকল্পটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান সুন্দরবন থেকে ৬৫ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। তারপরও পরিবেশের নেতিবাচক দিকগুলোর বিষয়ে তথ্য পর্যালোচনা করেই আমরা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। এতে করে সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত কোনও প্রভাব পড়বে না। করোনার কারণে কাজে স্থিতাবস্থা থাকলেও এখন কাজে গতি বেড়েছে।’
বাগেরহাট জেলার রামপালে অবস্থিত প্রকল্পটি ভারত সরকারের কনসেশনাল ফাইন্যান্সিং স্কিমের অধীনে নির্মিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ভারতের এনটিপিসি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ৫০/৫০ জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে।