পেট্রোবাংলার নিজস্ব জনবল থেকে এমডি নিয়োগ: কী আছে নতুন নীতিমালায়

পেট্রোবাংলার কোম্পানিগুলোতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে সরকার নতুন নীতি করছে। এর ফলে কোম্পানির ভেতর থেকেই এখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে পারবেন কর্মীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন নীতি করায় কর্মীদের উৎসাহ যেমন বাড়বে, তেমনই কাজের গতি বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। অনেক কোম্পানির পদস্থ কর্মকর্তারা বেশি বেতনে দেশের বাইরের কোম্পানিতে চলে যান। নতুন নিয়ম করলে যোগ্য কর্মীদের ধরে রাখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ৯ জুন প্রকাশিত গেজেটে ‘পেট্রোবাংলা ও অধীন কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়।

গেজেট অনুযায়ী, পেট্রোবাংলা প্রতিবছর নিজস্ব ও অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর যোগ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি প্যানেল বা যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করবে। তালিকাটি ওয়েবসাইট ও অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। তালিকা নিয়ে কোনও কর্মকর্তার আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে জানাতে পারবেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা কী বলছেন

বাপেস্কের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্তজা আহমেদ চিশতি বলেন, এই ধরনের নীতিমালা থাকা জরুরি। এতে করে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হয়।’’ তিনি বলেন, ‘‘তবে নীতিমালা করলেই হবে না, বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, সেটা জরুরিভাবে তদারকি প্রয়োজন।’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালা একটা জরুরি বিষয় ঠিকই, কিন্তু এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে কমিটি করা হয়েছে, সেটা ঠিক করা দরকার। কেননা, এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা থাকেন, তাহলে সেটা প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কাটা রয়ে যায়। বাইরের বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞতা আছে এমন লোকদের এই কমিটিতে রাখা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নতুন নীতিমালায় কী আছে

ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বিবেচিত হতে হলে প্রার্থীকে পেট্রোবাংলা বা এর অধীনস্থ কোনও কোম্পানির কর্মকর্তা হতে হবে। নিয়োগের সময় চাকরির মেয়াদে কমপক্ষে তিন বছর অবশিষ্ট থাকতে হবে। একইসঙ্গে কমপক্ষে ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং অন্তত এক বছর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চার বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, চার বছরের স্নাতক (সম্মান), তিন বছরের স্নাতক ও এক বছরের স্নাতকোত্তর অথবা স্নাতক (পাস) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন।

গেজেটে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতি বা ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত, বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া, কিংবা গুরুতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া কোনও কর্মকর্তা এমডি পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত কর্মকর্তারাও অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।

প্রার্থীর শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতা, সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং কোম্পানি আইন ও সরকারি বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি, পেট্রোবাংলার পরিচালক এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ ছয় সদস্যের একটি নিয়োগ কমিটি প্রার্থী বাছাই করবে।

প্রার্থী মূল্যায়নে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ৩৫, এসিআর ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য ২৫, চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা ও অর্জনের জন্য ২০, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাত বিষয়ে রচনা বা উপস্থাপনার জন্য ১০ এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চূড়ান্তভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ৭৫ নম্বর অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৫ নম্বর পেতে হবে। সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে।

গেজেটে বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সরকার সময়ে সময়ে এ নীতিমালার সংশোধন বা পরিমার্জন করতে পারবে।