ভূ-রাজনীতি নিয়ে সমাধানে পৌঁছেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। ঠিক সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। এরমধ্যে পাকিস্তান প্রতি লিটার ডিজেলে ৬৭ টাকা আর পেট্রোলে ৭৪ টাকা দাম কমিয়ে বিশ্ব সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পর দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি তুলেছেন ভোক্তারা।
জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় আমদানি ব্যয়ও আগের তুলনায় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের দাবি জোরালো হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গাড়িচালক, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দ্রুতই তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে। কিন্তু দাম কমলে সেই সুফল ভোক্তারা অনেক সময় পান না। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
বিশেষ করে পরিবহন ব্যয়, নিত্যপণ্যের দাম এবং কৃষি উৎপাদন খরচের সঙ্গে জ্বালানি তেলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, তেলের দাম কমলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।
বাংলাদেশে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকলেও ভোক্তাদের প্রত্যাশা— বৈশ্বিক বাজারে দামের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তার প্রতিফলন দেশীয় বাজারেও দেখা যাবে।
এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, ডলার বিনিময় হার, কর ও পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে। তারপরও বিশ্ববাজারে মূল্য কমার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
রাইড শেয়ারিং করে সংসার চালান রবিউল বলেন, তেলের ঘাটতি নিয়ে আমরা মাঝে একবার মাসখানেক ভুগলাম। এরপর সব স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তারপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের দাম দেশেও বাড়ানো হয়। এই বাইকের ওপর নির্ভর করে আমার সংসার চলে। যখন বিশ্ববাজারে দাম বেশি ছিল, তখন দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন তো কমছে, এখন দেশের বাজারেও কমানো উচিত।
রামপুরার রাস্তায় বাস চালক সুমন মিয়া বলেন, তেলের দাম বাড়ালে আমাদেরও বাস ভাড়া বাড়াতে হয়। তখন যাত্রীদের সঙ্গে অনেক ঝগড়া করতে হয়৷ এখন দাম কমালে যাত্রীদের ভাড়াও কমবে। সেটা করা গেলে যাত্রীরা আমাদের ওপর খুশি হবে।
শান্তিনগরের মূদি দোকানদার মোস্তাক বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে সরকার সঙ্গে সঙ্গে দেশে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কমলে আর সেটা কমায় না। কমালেও সেটা সেভাবে কমে না। এতে করে দিন শেষে কষ্টটা করতে হয় মধ্যবিত্তকেই। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে৷ এমনিতেই কেনাবেচা কমে গেছে। তেলের দাম বাড়লে পণ্যের কেনাকাটা আরও কমে যায়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দাম ১২০ ডলারে উঠলে দেশে তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ৪১ ডলার কমলেও দেশের বাজারে তেলের দাম কমবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, দাম বাড়ার তুলনায় কমার সময় সমন্বয় কম হয়।
গত ১৮ এপ্রিল সবচেয়ে বেশি তেলের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়। পেট্রোলের দাম লিটারে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়। এরপর জুন মাসের জন্য ডিজেলের দাম ঠিক রেখে অন্য সব তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুনে অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।








