চালু হচ্ছে পুড়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল, সংকট কাটতে কতদিন লাগবে?

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২ সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল আবার চালু হচ্ছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় টার্মিনালটি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। এখন মধ্যরাতে রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হলে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এর ফলে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ যুক্ত হতে পারে। আর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে।

আগুন লাগার পর টার্মিনালটি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় দেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও, ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

আরপিজিসিএলের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সন্ধ্যায় টার্মিনালটি চালু করতে পারবো। তবে এখন মনে হচ্ছে, মধ্যরাতেই এটি চালু করা সম্ভব হবে।’

এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে বাসাবাড়ির গ্রাহকেরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস ছিল না বা চাপ ছিল খুবই কম। ফলে অনেকেই রান্নাবান্না করতে পারেননি, আবার অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এরইমধ্যে ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকার কিনে কেউ কেউ।  একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশন মালিকরাও। গ্যাসের স্বল্পতায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানায় শিল্পমালিকরা। 

অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সিএনজি চালকদের। পাশাপাশি অনেক স্টেশন বন্ধও রাখা হয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে ধীরে ধীরে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজির গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।