মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা এবং গড় বিতরণ চার্জ ১ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটি (টিইসি)। একই সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এর চেয়ে বেশি হারে চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম, সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বড় শিল্প গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিক্রির সুযোগ থাকায় বিতরণ কোম্পানিগুলো বড় গ্রাহক হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, দিনে শিল্প গ্রাহকরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তাদের বিদ্যুৎ বিক্রি কমবে। তবে রাতে তুলনামূলক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। এতে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে।

তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম এ যুক্তির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জের চেয়ে বেশি হারে চার্জ নির্ধারণের যৌক্তিকতা বিতরণ কোম্পানিগুলো দেখাতে পারেনি। টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ করা ১ টাকা ১৭ পয়সা গড় বিতরণ চার্জের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শামসুল আলম বলেন, ডলারের দাম ১২৩ টাকা ধরলেও ভারতে সৌরবিদ্যুতের দাম প্রায় ৩ টাকা ৮০ পয়সা এবং পাকিস্তানে ৩ টাকা ৯০ পয়সা। এর চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করা হলে তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। অতীতের আইপিপির দরকে নতুন বিদ্যুতের বেঞ্চমার্ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদ্যা অমৃত খান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত যেতে না পারলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ঝুঁকিতে পড়বে। ইউরোপের বাজারে পরিবেশ ও কার্বন নিঃসরণের শর্ত কঠোর হওয়ায় প্রতিযোগী ভারত ও ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। নেট জিরো লক্ষ্য অর্জনে আগামী ১০ বছর সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর অবকাশ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নীতি সহায়তা সহজ করার পাশাপাশি সৌর প্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে কর অবকাশ দেওয়া প্রয়োজন।

সঞ্চালন চার্জের ক্ষেত্রে পিডিবি ২৩০, ১৩২ ও ৩৩ কেভিতে যথাক্রমে ৪৬, ৪৯ ও ৭৮ পয়সা প্রতি ইউনিট প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে পিজিসিবি বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা চার্জ আদায় করে।

বিতরণ পর্যায়ে নেসকো ১ টাকা ৭৬ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৬৫ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৮ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৪৫ পয়সা এবং পিডিবি ১ টাকা ৩৩ পয়সা পর্যন্ত চার্জ প্রস্তাব করেছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কমিশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনেছে। কেউ অতিরিক্ত মতামত দিতে চাইলে তা লিখিতভাবে জমা দিতে পারবেন। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।