প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত টাকা কাটার কারণ জানালো ডিপিডিসি 

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের সময় অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া, ‘ভূতুড়ে বিল’, ছুটির দিনে বা রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মূল্যহার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ টোকেন পাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের নানা বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব বিষয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মাবলি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট তুলে ধরেছে সংস্থাটি। 

অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার কারণ 

ডিপিডিসি জানায়, অনুমোদিত লোডের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে একবার ‘ডিমান্ড চার্জ’ কাটা হয়। কোনও গ্রাহক কয়েক মাস রিচার্জ না করলে পরবর্তীতে রিচার্জের সময় পূর্বের জমে থাকা সব মাসের ডিমান্ড চার্জ এবং চলতি মাসের চার্জ একসঙ্গে কেটে নেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে, এলটি-এ (আবাসিক) শ্রেণির ২ কিলোওয়াট লোডের গ্রাহক টানা তিন মাস রিচার্জ না করলে প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা হারে মোট ২৫২ টাকা কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রিচার্জ করা অর্থের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। 

মিটার ভাড়া 

গ্রাহক নিজ খরচে মিটার কিনলে বা পরিবর্তন করলে কোনও ভাড়া দিতে হয় না। তবে ডিপিডিসির দেওয়া সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া প্রযোজ্য। 

ট্যারিফ পরিবর্তন ও দীর্ঘ টোকেন 

বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর হলে প্রথম রিচার্জের সময় ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের দীর্ঘ টোকেন আসে। নতুন দর মিটারে সংযোজন করতেই এই বড় টোকেন তৈরি হয়, যা পরবর্তী রিচার্জে আবার স্বাভাবিক ২০ ডিজিটে ফিরে আসে। ম্যানুয়ালি টোকেন দেওয়ার ঝামেলা এড়াতে বর্তমানে আধুনিক ‘এএমআই প্রিপেইড মিটার’ বসানো হচ্ছে, যেখানে বিকাশ-রকেটের মতো মাধ্যম দিয়ে সরাসরি অনলাইনে রিচার্জ করা যায়। 

‘ভূতুড়ে বিল’ ও ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ 

প্রিপেইড মিটারে কারিগরিভাবে ভূতুড়ে বিলের সুযোগ নেই দাবি করে ডিপিডিসি জানায়, নির্ধারিত মূল্যহারেই ব্যালেন্স কাটে। তবে নিউট্রালজনিত সমস্যার কারণে বিলে অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ হিসেবে গণ্য হবে। এ সময় মিটারের টাকা শেষ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ কাটবে না, নেগেটিভ ব্যালেন্সে আলো জ্বলবে— যা পরবর্তী রিচার্জে সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া বিশেষ দরকারে ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ সুবিধাও চালু রাখা যাবে।

অভিযোগ জানানোর মাধ্যম 

কোনও কারিগরি ত্রুটি বা বিলসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বরসহ ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬ অথবা নিকটস্থ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি।