নেট মিটারিং ব্যবস্থায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজের ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাবে। এ জন্য গ্রাহকের সংযোগে একটি বিশেষ দ্বিমুখী নেট মিটার বসানো হবে। এর মাধ্যমে গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুৎ দুই হিসাব আলাদাভাবে রাখা হবে। মাস শেষে এই দুই হিসাবের পার্থক্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল হবে।
সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে কেউ তাদের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করতে পারবেন। এখানে ব্যাটারিযুক্ত সৌরবিদ্যুতের কথা বলা থাকলেও এটি সংশোধন হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ ব্যটারি ছাড়াও এই দাম পাওয়া যাবে।
দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার করলে গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ কিনতে হবে। উৎপাদন নিজের ব্যবহারের চেয়ে বেশি হলে বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে চলে যাবে এবং তা ক্রেডিট ইউনিট হিসেবে জমা থাকবে। পরের বিলিং মাসের সঙ্গে এই ক্রেডিট সমন্বয় হবে।
প্রতি তিন মাস অন্তর— মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শেষে একটি ‘সেটেলমেন্ট পিরিয়ড’ ধরা হয়। এই সময় শেষে গ্রাহকের ক্রেডিট ইউনিট জমা থাকলে সরকার নির্ধারিত ‘বাক্স ট্যারিফ’ হারে সেই বাড়তি বিদ্যুতের টাকা দেওয়া হবে। টাকা গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং বা চেকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।
অর্থাৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজের ব্যবহারের বিদ্যুতের বিল কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্যও ফেরত পাওয়া যাবে। এজন্য দ্বিমুখী নেট মিটার স্থাপন করতে হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অনুমোদন নিতে হবে।
উল্লেখ্য, যে গ্রাহক যে এলাকায় বসবাস করেন তাকে ওই এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।