সিএনজি ফিড গ্যাসের দাম ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর দাবি

ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো লোকসানের মুখে পড়ছে দাবি করে ফিড গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে সংগঠনটি জানায়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ বিদ্যুৎ। যানবাহনে গ্যাস সরবরাহে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের দাম একাধিক দফায় বাড়ায় সিএনজি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এর সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, ব্যাংকঋণের সুদ, লাইসেন্স নবায়ন, ভূমি ও স্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যয় যুক্ত হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে ফিড গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও সিএনজি স্টেশনগুলোকে তা ৪৩ টাকা ৫০ পয়সায় কিনতে হচ্ছে। অথচ একই গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো প্রতি ইউনিট ৪ থেকে ৫ টাকা দরে গ্যাস কিনছে। ক্যাপটিভ ও চা-বাগানে প্রতি ঘনমিটার ১৪ টাকা, লুব রিফাইনারিতে ১৪ টাকা এবং কাঁচ ও সিরামিক শিল্পে ২৬ টাকা দরে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।

এ ধরনের মূল্য ব্যবধান সিএনজি ব্যবসাকে প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন লোকসান বহন করা সম্ভব নয়। এতে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ অবস্থায় বিইআরসির কাছে ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা অস্থায়ীভাবে কমানোর পাশাপাশি সিএনজি ব্যবসায়ীদের প্রকৃত পরিচালন ব্যয় ও বিদ্যুৎ খরচ বিবেচনায় নিয়ে কমিশন বা মার্জিন দ্রুত পুনর্নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, পরিবহন সেবা সচল রাখা এবং এ খাতে টেকসই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে বিইআরসির ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আশা করেন।