আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, অধ্যাদেশ অনুমোদন

আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। একই সভায় বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 রবিবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অর্থাৎ ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, সেগুলোকে ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে ওপেক্স মডেলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৫ বছর মেয়াদে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান নেই।

একইভাবে ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় নতুন অধ্যাদেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে রটারডাম কনভেনশনে যোগ দেবে বাংলাদেশ

বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গৃহীত কনভেনশনটি ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়। এতে ইতোমধ্যে ১৬৭টি দেশ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভুটান ছাড়া অন্য দেশগুলো ইতোমধ্যে কনভেনশনে যোগ দিয়েছে।
কনভেনশনে যোগ দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

এ ছাড়া বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের তথ্যভান্ডার তৈরি, রাসায়নিকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যৌথ দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে।

কনভেনশনের আওতায় সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক এবং আইনি তথ্য বিনিময় করতে পারবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় রটারডাম কনভেনশনের সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা পাওয়া যাবে।