তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটের মধ্যেই আরেক দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার প্রতি ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। এতদিন এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। একইভাবে অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়দা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম আজ সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বিইআরসি। শুধু ১২ কেজি নয়, ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত সব ধরনের সিলিন্ডারের দামই বাড়ানো হয়েছে।
কোন সিলিন্ডারে কত বাড়লো
ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, সাড়ে ৫ কেজির ৮৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৪৪ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৪৬ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ২৯৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৪৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৭৮৭, ১৮ কেজির ২ হাজার ৭৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯০ টাকা, ২০ কেজির ৩ হাজার ৬১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৩৪, ২২ কেজির ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৭৭৭, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৮২৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৯২ টাকা, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৫৯২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ১৫০ টাকা, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ৫১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৩৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ৯ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৭২৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহার করা রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরকার করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৩৩১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৩৬৮৫ টাকা করা হয়েছে। অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে।
চার্জও বাড়ানো হয়েছে
বেসরকারি এলপিজি এর মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজি ২৩ টাকা ৪৮ পয়সায়, ডিস্ট্রিবিউটরের চার্জ প্রতি কেজি ৭ টাকা ৮ পয়সায়, রিটেইলারের চার্জ প্রতি কেজি ৫ টাকা ৮৩ পয়সায়, অটোগ্যাসের মজুতকরণ চার্জ প্রতি লিটার ৫ টাকা ৫৯ পয়সায় এবং অটোগ্যাসের স্টেশন চার্জ প্রতি লিটার ৯ টাকা ২৫ পয়সায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছিল। বাজারে এলপিজির সংকট, বাড়তি দামের অভিযোগের মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ালো বিইআরসি।
গত ২৯ অক্টোবর এলপিজির দাম, এবং মজুতকরণ, বোতলীকরণ চার্জ, ডিস্ট্রিবিউশন চার্জ নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। শুনানিতে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটররা ১২ কেজির সিলিন্ডারে তাদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দেন।
শুনানিতে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করে। এতে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ১৩৯ টাকা। শুনানির পর ২ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছিল কমিশন। মতামত দেওয়ার শেষ দিনেই নতুন দাম ঘোষণা করলো তারা।