গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫২ আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৪

আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বা রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে অন্যতম সহজ ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ মানুষকে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, আগামী গ্রীষ্মে তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার কাজ করছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে মাত্র দুই মাসের মধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এ নীতিমালা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার ও ইউজিসি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনে সহযোগিতা করবে বিদ্যুৎ বিভাগ। এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট অর্জন করা যায়। নির্ধারিত যাচাই ও স্বীকৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ ক্রেডিট বিক্রিরও সুযোগ রয়েছে।

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ আয়োজনের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়ে উপাচার্যদের অংশগ্রহণে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নিয়ে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করা এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যেই এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউজিসি ইতোমধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলটি ইউজিসির নিজস্ব ভবনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। তবে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয় কমাতে পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক বা ওপেক্স (OPEX) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ব্যয় হয়। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

কার্বন ক্রেডিট অর্জনের বিষয়টি শুরু থেকেই পরিকল্পনায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কতটা কমছে, তা নিরূপণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কার্বন ক্রেডিট অর্জনের প্রক্রিয়ায়ও ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, চুক্তির খসড়া ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনই উদ্যোগ নিলে আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব।

সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও ওপেক্স মডেলে এর সম্প্রসারণ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রাজ্জাক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহ এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।

এ ছাড়া ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান ও অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, কমিশনের আইসিটি বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুকসহ ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

/এসএমএ/আইএএম/
সম্পর্কিত
গ্রীষ্মে সোলার দিয়ে লোডশেডিং কমানোর আশা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
ইনানীতে নলকূপ খননে গ্যাস উদগীরণ, মজুত নিরূপণে জরিপ
রাজধানীতে ৩ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘সোলার এক্সপো’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে থমথমে অবস্থা, একসঙ্গে ২৬৪ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে থমথমে অবস্থা, একসঙ্গে ২৬৪ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
মাসুদ হোসাইনকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান গ্রেফতার 
মাসুদ হোসাইনকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান গ্রেফতার 
এলজিইডির কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল সিম ও হোয়াটসঅ্যাপ সচল রাখার নির্দেশ
এলজিইডির কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল সিম ও হোয়াটসঅ্যাপ সচল রাখার নির্দেশ
ইসরায়েলি বোমায় জিম্মিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেন সাবেক সেনাপ্রধান
ইসরায়েলি বোমায় জিম্মিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেন সাবেক সেনাপ্রধান
সর্বাধিক পঠিত
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং
সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং
এআই দিয়ে জীবিত দেখিয়ে ৪ লাখ মুক্তিপণ আদায়: সেই রাকিব পেলেন জিপিএ-৫, বাড়িতে কুলখানি
এআই দিয়ে জীবিত দেখিয়ে ৪ লাখ মুক্তিপণ আদায়: সেই রাকিব পেলেন জিপিএ-৫, বাড়িতে কুলখানি
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও নাজমুল ইসলাম
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও নাজমুল ইসলাম