আরও পড়তে পারেন: সেবা, চিকিৎসা আর সহযোগিতায় বদলে যাচ্ছেন মরিয়ম
সর্বভুক হতে গিয়ে আমাদের কাছে বাড়তি জমে যাচ্ছে অনেক কিছুই। সেই বাড়তি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেব, নিজের অর্জনের অংশীদার করবো অন্যকে। সেই বিপন্নতা অনুপস্থিত পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে। নিজেকে ছাড়িয়ে অন্যকে ভালোবেসে বা অন্যের মঙ্গলের জন্য উৎসর্গিত হওয়ার মন হারিয়েছে বর্তমান মানুষ বা আমরা। নিজেকে অপরের জন্য নিঃস্ব করে দেওয়া। অন্যের কাছে উজাড় সমর্পিত হওয়া এক প্রকার বিপন্নতা। এভাবে বিপন্ন হওয়ার মানুষের মন্দাকাল সমাজে। আমরা এখন ভেসে চলতে ভালোবাসছি খুব। সময়ের সঙ্গে ভেসে চলা। কচুরিপানার মতো ভেসে চলা। সবুজ জলের নিচে ডুব দিতে চাই না। অপেক্ষা করে নিতে চাই না জলের নিচের জীবনের খবর। ভয়, আতঙ্ক জলের খবর নিতে গেলে যদি তলিয়ে যাই চোরাস্রোতে। এই ভেসে যাওয়া মানুষেরা সময়কে, সঙ্কটে, লড়াইকে, প্রশ্নকে এড়িয়ে যেতে ভালোবাসে। বর্তমান সময়ে এই ভেসে যাওয়া মানুষের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। তাই সাম্প্রতিক সময়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে যে আতঙ্ক, উদ্বেগ সঙ্কট তৈরি হয়েছে সেখানে মৌণতা। নিঃশব্দতার মাঝে অন্ধকারের গর্জনেও কারও ঘুম ভাঙছেনা। ভাত ঘুমে নিমজ্জিত সবাই। কিন্তু সমাজের তো এখানে থাকার কথা ছিল না। ভোগবাদী সমাজে অভ্যস্ত ছিলাম না আমরা নিকট আশির দশকেও। গোলমালটা বাঁধে নব্বই থেকে। শূন্য দশকে এসে তা আরও প্রকট রূপ নেয়। ভোগ, পুঁজি এসে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে বৈদ্যুতিক জালে আটকে ফেলে। ব্যক্তি ভোগ করতে চায়, তার ভোগ সমাজকে ভোগে প্ররোচিত করে, রাষ্ট্রকেও সেই ভোগবাদিতায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। উল্টোদিক থেকেও বলা যেতে পারে রাষ্ট্র সমাজ ও পরিবারকে ভোগবাদিতার পথে নামিয়েছে। সেই ভোগ নিজস্বতার ভোগ। যেখানে ব্যক্তি তার সঙ্গে কথোকথনের ফুরসত পায় না। কারণ একবার ব্যক্তি যদি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায়, তাহলে বুঝে যেতে পারে ভোগের মাত্রা অতিক্রম করছে সে।
আরও পড়তে পারেন: একজন রূপবানের মৃত্যু
তখন সে থেমেও যেতে পারে। রাষ্ট্র বুঝি তা চায় না। কারণ ভোগে যদি ব্যক্তি সমাজ বুঁদ হয়ে থাকে, তাহলেই তো তার ফায়দা হাসিল। মানচিত্র, ক্ষমতার কোনও অংশীদারিত্ব আর আম মানুষের সঙ্গে করতে হচ্ছে না। ক্ষমতা চক্রে আছেন যারা, তারাই থাকবেন। আপেল বাগানে উষ্ণ বাতাস বয়ে যাবে। কাল-বৈশাখীতে কেবল ঝড়ে পড়বে আম মানুষের স্বপ্নের ফলন।
কিন্তু এই ফলন বিনষ্ট হওয়ার কথা ছিল না। যদি বিপন্ন মানুষেরা হতেন সহজলভ্য। এই বিপন্ন মানুষ খুঁজে পাওয়া যেতো বিদ্যালয়ে, সমাজে, পরিবারে এবং রাজনীতির মাঠে। যারা সুন্দর সকাল, উপভোগ্য দুপুর এবং স্বপ্নের রাত্রি উপহার দেওয়ার জন্য নিজেকে বিপন্ন করে দেবেন। হাত বাড়ালেই এমন বিপন্ন মানুষ চাই। যাদের কাছে আছে বিপন্নতা থেকে মুক্তির দাওয়াই।
লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি