প্রায় একযুগের বেশি সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বেশিরভাগ সময়েই কাজ করেছি বিভিন্ন দৈনিক কাগজে। প্রায় দুই বছর হলো আছি জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনে। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সংবাদই লিখেছি। ফলে রাজনীতির উত্থান-পতন অনেক দেখেছি। ওয়ান-ইলেভেনের মতো রাজনৈতিক বৈরী পরিস্থিতি দেখেছি। ওই সময়ও অনেক কিছু জেনেছি, কিন্তু লিখতে পারিনি। যতটুকু লিখেছি, তা যতটুকু জেনেছি তার চেয়ে অনেক কম ছিল। আমি মনে করি, ওয়ান-ইলেভেন যেহেতু দেখেছি, সেহেতু রাজনৈতিক উত্থান-পতন শব্দটি ব্যবহারের জন্য খুব বেশি ব্যাখ্যা দিতে হবে না। তাই ব্যাখ্যায় না গিয়ে বলছি, এক যুগের বেশি সময় সংবাদিকতায় থাকার সুবাদে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছি।
সংবাদ সংগ্রহের কাজে তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েই ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ঘনিষ্ঠতা এই পর্যায়ে রয়েছে যে, রাজনীতির অন্ধরমহলেরও অনেক তথ্য জানার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু লিখলে একদিনেই জনপ্রিয় সাংবাদিক বনে যাওয়া যায়। একইসঙ্গে পাঠকও খবরের পেছনের খবর খুব ভালোভাবেই জানতে পারেন। জানতে পারেন, একটি ঘটনার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। কিন্তু এই ‘অব দ্য রেকর্ড’ শব্দটি আমাকে যেমন জনপ্রিয় সাংবাদিক হওয়ার পথে বাধা দেয়, তেমনি পাঠক সমাজকেও অন্ধরমহলের অনেক তথ্য জানা থেকে বিরত রাখে।
রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাদের অফিসে, বাসায় বা রেস্টুরেন্টে বসে অনেক সময় কাটিয়েছি। অনেক সময় তারা কিছু কিছু তথ্য জানান গল্পের মতো করে। রাজনীতির কৌশল, নেতাদের তদবিরবাণিজ্য, প্রতিপক্ষকে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, নেতাদের অপরাধ, কে চাপে আছেন, কে ফর্মে আছেন, এমনসব তথ্য জানার সুযোগ হয়। শুনতে শুনতে শিহরিত হই। ভাবি, খুব ভালো তথ্য পেলাম। পাঠককে তথ্যসমৃদ্ধ সংবাদ জানাতে পারব। এই শিহরণ শেষ হতে না হতেই দেখা যায়, ওই রাজনৈতিক নেতা বলে ওঠেন, পাভেল, এটা কিন্তু লেখার জন্যে নয়, তোমার জানার জন্যে বললাম। বিষয়টা ‘অব দ্য রেকর্ড’।
কথাটা শোনা মাত্রই যেন মাথায় বাজ পড়ে। খুব অসহায় হয়ে পড়ি। অবশ্য এ ধরনের অব দ্য রেকর্ড শুনতে শুনতে এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। ঘনিষ্ঠতা ও অব দ্য রেকর্ড- এই দু’টি বাইন্ডিংস থেকে সেই তথ্য আর কখনোই পাঠকের কাছে তুলে ধরা হয় না। আমারও আর জনপ্রিয় সাংবাদিক বনে যাওয়ার সুযোগ হয় না।
লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলা ট্রিবিউন