আর্থিক সেবা খাত নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে

বিগত দশকে আর্থিক সেবা খাত নানা উদ্ভাবন এবং রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে, বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ব্যবসা খাতের কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে এবং আর্থিক সেবা খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আশার কথা, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। ফলে পূর্বে যেসব উদ্ভাবন ও রূপান্তর ঘটেছিল, তার গতি ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান আগে তাদের কার্যক্রম এবং সিস্টেমসমূহ ডিজিটালের আওতাভুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুতগতিতে সংকট উত্তরণে সক্ষম হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রয়োজনীয়তা আরও ভালোভাবে বুঝতে ও সেবা প্রদানে এআই ব্যবহার শুরু করেছিল, তারা দ্রুততার সঙ্গে গ্রাহকদের নতুন চাহিদা পূরণ করতে পেরেছে। তাতে, এটি স্পষ্ট যে যেসব প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী ডিজিটাল ভিত্তি রয়েছে, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে তারা অন্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছে।  

টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মীদের ক্ষমতায়ন

আমরা কীভাবে, কখন, কোথায় থেকে কাজ করবো- এ ব্যাপারে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে, কর্মক্ষেত্রের আধুনিকায়ন ত্বরান্বিতকরণ আমাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই খাতে বিনিয়োগের ফলে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা, যোগাযোগ, ব্যবসা পরিচালনায় উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার ও যেকোনও স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভে সহায়তার মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করার প্রক্রিয়া আরও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হবে।

ঝুঁকি ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা

গত দুই বছরে আমরা দেখেছি, যত বড় পরিবর্তনই আসুক না কেন, নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা ও কমপ্ল্যায়েন্সের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা আবশ্যক, যাতে তারা গ্রাহকদের ঝুঁকির ক্ষেত্রগুলোতে মনোযোগী হতে পারেন; পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সুরক্ষায় কমপ্ল্যায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেন।

উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধির জন্য লঞ্চপ্যাড

ডিজিটাল টুলস ও ক্লাউড অবশ্যই গ্রাহকদের নির্দিষ্ট চাহিদা এবং চ্যালেঞ্জের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা উচিত। দায়িত্বশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য খাত অনুযায়ী ক্লাউড সমাধান নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে, যা টেকসই এবং ক্রমাগত উদ্ভাবনের পথে সহায়ক ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে, তাদের গ্রাহকদের সহায়তা প্রদানের নতুন সুযোগ খুঁজতে হবে, এ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে খাত-সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করতে হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে আর্থিক সেবার ব্যবহার চালু করতে হবে।      

ভবিষ্যতে আমরা ওয়ার্কফোর্সে পরিবর্তনের আরেকটি বড় ট্রেন্ড দেখতে পাবো। কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা থাকবে। মেধার চর্চা ও বিকাশের প্রশ্নেও ধারাবাহিকভাবে আমূল পরিবর্তন আসছে। বিভিন্ন সেক্টর থেকে মেধাবীদের কাজে লাগাতে হাইব্রিড কাজের পদ্ধতি গুরুত্ব পাবে।  

ভবিষ্যত যা নিয়ে অপেক্ষা করছে তার জন্য কোনও সহজ রোডম্যাপ না থাকলেও ডিজিটালাইজেশন বিভিন্ন সম্ভাবনা বাস্তবায়নের অসাধারণ সুযোগ তৈরি করছে। আমরা যেভাবে ভাবতে শুরু করেছি সেই পথ ধরেই সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আর তাই, আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা আমাদের আর্থিক সেবা খাতের গ্রাহকদের সময়ানুগ উদ্যোগ গ্রহণ, ব্যয় হ্রাস, তৎপরতা বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি লাভে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

লেখক: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ