শৈশবে যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার মাউথ অর্গানের সাথে সখ্য। সেটাও হাতে নিয়েছি এলাকার বড় ভাইয়ের ফ্যাশন দেখে। তারা প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা প্রয়াত দেবানন্দের ভক্ত। তখনকার সময় একশ্রেণির দর্শক সাদাকালো সিনেমা দেখতে বেশ পছন্দ করতেন। দুটোয় অফিস ছুটি হতো। বাসায় ফিরে বাবা-মা দুপুরের ম্যাটিনি শো দেখে হালকা একটু বিশ্রাম নিতেন। তো সেই বড় ভাই দেবানন্দকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়, আর আমি তাকে দেখে। মাউথ অর্গান বাজানোর যদিও কোনও গ্রামার আমরা কেউই জানতাম না। কিন্তু এলোমেলো বাজিয়ে এক হাতে আমাদের বাহাদুরির অভিনয়টা অব্যাহত ছিল। পরিবারের অন্য সদস্যদের ইমপ্রেস করার চিন্তাটা তখনই মাথায় ঘুরপাক খেতো। কিন্তু আদৌ এই প্রক্রিয়ায় মাউথ অর্গান শেখার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না। কারণ, ইচ্ছে ছিল না। এখন ভাবী– ইচ্ছে আর অধ্যবসায় এক না হলে কি কোনও বিষয়ে বোদ্ধা হওয়া যায়।
আজ জেনেছি কোনও বিষয় বা কোনও কারিগরি সম্বন্ধে জানতে ট্রেনিং কতটা জরুরি। ট্রেনিং ছাড়া বা শিক্ষক ছাড়া কোনও মানুষের পরিপূর্ণ মানস গঠন অসম্ভব।
আমি মার্কেটিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি। হাড় মাংস এক করতে হয়েছে একজন সফল মার্কেটার হিসেবে গড়ে উঠতে। ভালো একজন বিক্রেতা হতে হলে বিক্রি করার গ্রামারটা জানা প্রয়োজন যেমন, তেমনি মনে করি আমি যদি একজন রাজনীতিবিদ হই তাহলে রাজনীতির প্রাথমিক জ্ঞানটা খুব জরুরি।
কোনও বড় ভাইয়ের পাল্লায় পড়ে রাজনীতি না জেনে রাজনীতি করতে এলে বিপদে পড়তে হবে বলে আমি মনে করি।
আমার স্কুল ছিল উদয়ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই আমাদের খেলাধুলা করে বেড়ে ওঠা। নব্বই দশকে মনে আছে, যখন স্কুলে পড়ি তখন প্রায় সময় গোলাগুলির আওয়াজ শুনতাম। আমাদের শিক্ষকরা বেঞ্চে হেড ডাউন করে শুয়ে থাকতে বলতেন। আমরাও শুয়ে থাকতাম চুপ করে। আর কানে নানা গোলাগুলির শব্দ আসতো। টিচাররা শঙ্কিত থাকতেন। তখন বুঝতাম না কেন এত মারামারি ও হানাহানি। মাঝে মাঝে আমাদের স্কুলের বড় ভাইদের ওপর চড়াও হয়ে যেতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। তখন মধ্যস্থতা করতেন আমাদের প্রধান শিক্ষক। আমাদের মিলিয়ে দিতেন বড় ভাইদের সাথে। দোষ যে খুব বড় কিছু করতাম তাও না। হয়তো দুপুরবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের মাঠে খেলতে গিয়েছি বা কোনও গাছের ডাল ভেঙেছি। আর পাশেই ছিল ব্রিটিশ কাউন্সিল। ওখানে গিয়ে মাঝে মাঝেই ঢুঁ মারতাম।
তখনকার হলে থাকা বড় ভাইদের স্নেহ পেয়েছি, সেটাও কম ছিল না। দুপুরবেলা ছিল তাদের বিশ্রামের সময়। তখন আমরা গিয়ে ওদের মাঠে ক্রিকেট খেলতাম, হাউকাউ করতাম। তাদের ঘুম ভেঙে যেত। বিশ্রাম হতো না। মাঝে মাঝে তাদের আসতে দেখলেই দৌড় দিতাম। হলের বড় ভাইরা আমাদের বুঝিয়ে বলতেন। মাঝে মাঝে চানাচুর চটপটি খাওয়াতেন।
ছোটরা ভুল করলে বড়রা বোঝাবে এটাই আমাদের দেশের সংস্কৃতি ছিল। ছোট হিসেবে বড়দের মর্যাদাহানি হয় আমরাও এমন কিছু করতাম না। পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সব বিষয়েই প্রাথমিক একটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আছে। শুধু আমাদের দেশেই ট্রেনিংয়ের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাপনা আছে বলে আমি মনে করি না। আসলে রাজনীতিতে যোগদানের আগে প্রতিটা সক্রিয় সদস্যের ট্রেনিং করানো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, দেশের ইতিহাস, দেশ গঠন, লিডারশিপের গুণাবলি, মাঠকর্মীর দায়িত্ব ও কর্তব্য, প্রফেশনাল এটিকেটস, মানবীয় গুণাবলি, সিনিয়রদের সাথে বার্তালাপসহ সব বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের ট্রেনিং দেওয়া জরুরি। অবশ্যই সেটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হওয়া উচিত। পাশাপাশি থাকবে ব্যবহারিক জ্ঞান।
একজন কর্মীকে অবশ্যই দুস্থ মানুষের দুঃখ বুঝতে হবে। তাদের সাথে সময় কাটাতে হবে।
যখন সেলসম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেছিলাম তখন দৈনিক ৭০টা দোকানে ভিজিট করতাম। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোসকা পড়ে যেতো। বাসায় এলে মা রাতে সেই ফোসকা পড়া পায়ে তেল মেখে দিতেন। পরের দিন আবার একই জার্নি। ৩৫০০ পরীক্ষার্থীর সাথে পরীক্ষা দিয়ে চাকরিটা পেয়েছিলাম একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ প্রথম ১৫ দিনে বুঝে গিয়েছিলাম এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম যে আমি সেলসম্যান হবো। ঠিক রাজনীতিতে আসতে হলে যদি এমন কিছু কর্মশালা আয়োজন করে কিছু দক্ষ কর্মী তৈরি করা যায়, যারা সত্যি দেশকে ভালোবেসে দেশের মঙ্গলে কাজ করবে তাহলে দেশের চলমান জীবন প্রবাহে সুবাতাস বইবে। আর যারা এই পরিশ্রমের সাথে তাল মেলাতে পারবে না তারা অন্য কোনও কাজে মনোযোগ দেবে।
রাজনীতিতে আসতে হলে দেশের মানুষের জন্যে, দেশের জন্যে কিছু করার মানসিকতা নিয়ে আসতে হবে। এর জন্যে প্রয়োজন ট্রেনিং। আমাদের দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলোসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলে এমন কর্মশালার প্রয়োজন আছে। শুধু দলে যোগদানের আগে নয়, যোগদানের পরেও তাকে নানা রকম কর্মশালার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তার পদবি ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী। এই কর্মশালাগুলো যদি দলের প্রধান বা দলের অগ্রজ কেউ পরিচালনা করে তাহলে খুব ভালো।
এই কর্মশালার মাধ্যমে একজন কর্মী অনেক পরিশালিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের প্রচার ও প্রচারণার জন্যে নিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর সাহায্য নেয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর দেশের প্রতি অবদানগুলো মানুষের সামনে আসবে। যিনি ক্ষমতায় আছেন বা যারা ক্ষমতায় অতীত হয়েছেন দুই দলের জন্যে বিজ্ঞাপনী প্রচারণা জরুরি। দেশের মানুষ তার নিজস্ব জীবনযাত্রায় ব্যস্ত থাকে। তাদের প্রত্যেকের একটা আলাদা যুদ্ধ আছে। বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো নানা প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের স্মৃতিতে দেশের জন্যে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানগুলো সবসময় উজ্জ্বল করে প্রদর্শন করবে। এতে জনগণের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতি সচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘Eat the cake, you can’t have it too’. অর্থাৎ আপনি যদি কেকটি খেয়েই ফেলেন তাহলে তো কেকটি আর আপনার রইলো না। বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের ব্যক্তিস্বার্থ থেকে বের হয়ে দেশের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে রাজনৈতিক দলগুলো বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর সাহায্যে তাদের অভিনব প্রচার ব্যবস্থা চালায়। এই প্রক্রিয়ায় দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর প্রতিযোগিতা থাকলেও মারামারি ও হানাহানির সংস্কৃতি থেকে প্রতিটা দল বেরিয়ে আসবে। জনগণের মনে আতঙ্কের অবসান ঘটবে। ইদানীং কিছু দারুণ অভিনব প্রচারণা আছে, যা আমাদের দেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতারা তাদের নানা বিজ্ঞাপনে তুলে ধরেছেন।
দলের প্রচারণা চালাতে আমরা কেন বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের সাহায্য নিই না। জনগণ এতে নতুন কিছুর স্বাদ পাবে। নেতা ও কর্মীদের হাতে কবিতার বই ধরিয়ে দিতে হবে। কবিতা দিয়ে হবে যুদ্ধ। প্রতিটা কর্মীকে পঞ্চাশ বা একশোটি বইয়ের জ্ঞান মুখস্থ করে রাজনীতিতে আসতে হবে। সেটা হতে পারে রাজনীতি বিষয়ক কোনও নেতার জীবনী বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস। আমি যখন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম তখন আমাদের লিডারশিপ নিয়ে সিনেমা দেখানো হতো। সিনেমা শেষে সবার সামনে গিয়ে বলতে হতো কী দেখলাম। এভাবে আমাদের ভেতর নেতৃত্ব দেওয়ার আবেগটি বপন করা হয়েছিল। রাজনীতি একটা আবেগের নাম। যেটা উপলব্ধির প্রয়োজন আছে।
ভারতে ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীন দলের ভূমিধস জয়ের বেশিরভাগ কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছিল এর বিপণন এবং ব্র্যান্ডিং প্রচারাভিযানকে। এই প্রচারাভিযান পরিচালনাকারী মিডিয়া সংস্থাগুলো হলো ওগিলভি অ্যান্ড ম্যাথার, সোহো স্কোয়ার এবং ম্যাডিসন ওয়ার্ল্ড। এটি সম্ভবত প্রথমবারের মতো রাজনীতিবিদরা উপলব্ধি করলো ভারতীয় নির্বাচনে বিজ্ঞাপন এবং জনসংযোগের গুরুত্ব কতটা। সুতরাং, একজন রাজনীতিবিদ হতে হলে একটি পিআর ম্যানেজমেন্ট কোর্স প্রতিটি কর্মীকে একটি গতিশীল অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারে। তাই ভারতে বিজ্ঞাপন এবং জনসংযোগ প্রচারণা এত বড় ভূমিকা পালন করেছে যে যেসব দল এমন প্রচারণা চালাচ্ছে না তারা অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিজ্ঞাপনী সংস্থার মেলবন্ধন আজকাল একটি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়ে জাতীয় আকার ধারণ করেছে।
তাই অবাক করার মতো বিষয় হলেও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা কোর্সের মডিউলগুলোতে নির্বাচনে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তা কেস স্টাডি হিসেব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে পড়ছে তারাও জানতে পারছে যে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে এমনই একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, মোবাইল কোম্পানি ধর্মীয় উৎসবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাকে দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ভোক্তারা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
২০০৮ সালে আমেরিকায় বারাক ওবামা তার প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সেই বছর ২০০৮ সালে প্রার্থীরা অনলাইন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোতে মোট ২২.২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। তারপর থেকে, অনলাইনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো আরও শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। ২০১৬ সালে প্রার্থীরা তাদের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে বিজ্ঞাপনগুলো গ্রামীণ এবং শহুরে উভয় জনসাধারণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারে। ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোও ঠিক এভাবেই নির্বাচনি বিজ্ঞাপনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। গুগল দ্বারা প্রকাশিত ভোটের ওপর ভারতীয় স্বচ্ছতা প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু দল তাদের প্রচার বাজেটের প্রায় ৩২ শতাংশ বিজ্ঞাপনে ব্যয় করছে। এই দলগুলোর দ্বারা ব্যবহৃত সর্বাধিক জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন, প্রিন্ট, রেডিও এবং ডিজিটাল মিডিয়া।
ভারতের এই প্রচারণা সাধারণ দিনমজুর মানুষকেও দল নির্বাচনে সক্রিয় করে তুলেছে। তাহলে আমরা কেন রাজনীতিতে বিজ্ঞাপনী প্রচারণার সাহায্য নিচ্ছি না।
বর্তমানে কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু হচ্ছে রাজা। মানুষ এখন গল্প খোঁজে। খোঁজে আবেগ। বর্তমানে নির্বাচনে যে মার্কেটিং কৌশলই ব্যবহার করা হোক না কেন, বক্তৃতা, স্মরণিকা, লিফলেট এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের বিষয়বস্তুকে অবশ্যই প্রাথমিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সম্প্রতি কনটেন্টের একটি নতুন মুখ আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এই লিফলেট-স্মরণিকায় আমি কী লিখছি। আমার লেখা জনগণকে কোনদিকে ধাবিত করতে পারে? এই কনটেন্ট দিয়েই আপনি মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেন।
এই কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু হলো রাজনৈতিক চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রগুলোর সাহায্যে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পিআর এজেন্সি এবং প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এই রাজনৈতিক সিনেমা এবং বইগুলো ছাড়াও টুইটার, ইউটিউব এবং ফেসবুকে নানা তথ্যভিত্তিক প্রচারণা যে দলগুলো সাধারণ মানুষের জীবনাচরণে যে পদক্ষেপ রাখছে তা নতুনভাবে উপস্থাপন করে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। যেমন, বঙ্গবন্ধুকে রোল মডেল বানিয়ে গ্রামগঞ্জে ছোট ছোট নাটিকা প্রদর্শন করলে দারুণ একটা আমেজ তৈরি করতে পারে। সাধারণ কৃষক তার পত্নীকে নিয়ে পিঠা পার্বণে রাতে এসে যখন এমন নাটিকা দেখবে তখন তাদের মনেও দলের প্রতি একটি সদ্ভাব তৈরি হবে। অল্প অল্প কিছু কাজ হচ্ছে না তা একেবারেই নয়। তবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল তাদের কর্মযজ্ঞ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারে।
ভয় ও নৃশংসতা দেখানো রাজনীতি কখনও সফলতা বয়ে আনে না। ভয় খুবই ক্ষণস্থায়ী। ছোটবেলায় অনেক রাক্ষস খোক্ষসের গল্প শুনেছি, ভয়ও পেয়েছি। সেই রাক্ষস হুট করে একবার দেখলে ভয় লাগে। বারবার দেখলে হাসি পাবে। এটাই স্বাভাবিক। প্রচারণায় একটি নতুন আঙ্গিক আসুক। বঙ্গবন্ধুকে আমরা একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখেছি। তিনি কবিতা ভালোবাসতেন। কবিদের ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু যথেষ্ট সংবেদনশীল একজন মানুষ ছিলেন। বিশ্বায়ন বলে আজ আমরা যেভাবে চিৎকার করি, বঙ্গবন্ধু বহু আগেই বিশ্বায়নের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন। তাই তো বিশ্বের নেতারা এখনও বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করেন। মূল্যায়ন করেন তার দৃষ্টিভঙ্গি।
“আমার দেখা নয়াচীন” বইটি যারা পড়েছেন তারা জানবেন তিনি কত বড় মাপের একজন সাহিত্যবোদ্ধাও ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ কোনও মহাকাব্যের চেয়ে কম নয়। সেই ভাষণের প্রতিটি শব্দ অমূল্য। যার বক্তব্যে সমস্ত বাঙালির রক্তে বান ডেকেছিল সেটাই ছিল অগ্নিঝরা মার্চের ভাষণ। সাধারণ মানুষ যে রাজনীতি বোঝে না তারাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালির সম্ভ্রম বাঁচাতে। বঙ্গবন্ধু স্বৈরাচারী ছিলেন না। আবেগ দিয়ে মানুষের মনে বসত গড়েছেন। সেই ঘর আজও বলবৎ আছে। যারা নতুন প্রজন্ম তারা রাজনীতি, সাহিত্য, জীবনের অঙ্ক ও বৈজ্ঞানিক ভাবনার মিশেল ঘটাক আত্মোন্নয়নের স্মারক হিসেবে। মানুষের জয় হোক, জয় হোক মানবতার।
লেখক: গল্পকার, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং প্রফেশনাল