সর্বমিত্র’দের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে

গণমাধ্যমে দেখলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে লাইন ধরে প্রায় ৩০ জন শিশুকে কান ধরে উঠবস করাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র সর্বমিত্র চাকমা ও আরও কয়েকজন। সর্বমিত্র হাতে একটি লাঠি নিয়ে শিশুদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। প্রকাশ্য কানে ধরে উঠবস করানোর জন্য শিশুদের বাধ্য করছেন।

পরে আরেকটি ভিডিওতে দেখলাম, ঢাবি জিমনেসিয়ামে ছোট শিশু ও প্রাপ্তবয়সী প্রায় ২০ জনকে অনুরূপভাবে কানে ধরে উঠবস করাচ্ছেন। এরা কেউ কেউ জিমের পোশাক পরে এসেছেন। একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমে বাইরের কেউ আসতে পারবে কী পারবে না, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। সেজন্য কোনও ছাত্র বেআইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে কাউকে হেনস্থা, শারীরিক নির্যাতন ও অপমান করতে পারে না। তার যদি কোনও অভিযোগ থাকে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানাতে পারতো। তাদেরকে বহিরাগতমুক্ত করতে বাধ্য করতে পারতো।

এ দুটি ঘটনার প্রভাব সুদূর প্রসারী। যেসব শিশুকে জোর করে কানে ধরে উঠবস করানো হয়েছে, সেসব শিশুর মধ্যে ক্ষোভ, অভিমান ও আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবিলম্বে এসব শিশুকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে কাউন্সেলিং করা দরকার যেন তারা এ ঘটনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠে।

সর্বমিত্র-রা যা করছেন, এ ধরনের নেতিবাচক ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রে এমন অন্যায় বা শিশুদের বিরুদ্ধে মব উসকে দিতে পারে। অথচ কোনও অপরাধেই শিশুদের অপমানজনক সাজা দেওয়া যায় না। খুনের অপরাধে অভিযুক্ত শিশুকেও সাজা দেওয়া হয় না, শিশু সংশোধন কেন্দ্রে পাঠায়। যেসব শিশুকে খেলার মাঠে প্রকাশ্যে কানে ধরে উঠবস করানো হলো, তারা সারাজীবন এটি মনে রাখবেন যে, ঢাবি খেলার মাঠে খেলতে যাবার অপরাধে তাদের কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয়েছে। এসব শিশু সারাজীবন সর্বমিত্র, তাদের পৃষ্ঠপোষক ছাত্রশিবির ও ডাকসু, উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আজীবন ঘৃণা করবে, যদি না তারা এ ঘটনায় সর্বমিত্র-সহ জড়িতদের শাস্তির আওতায় না আনে।

শুনেছি সর্বমিত্র ডাকসু হতে পদত্যাগ করেছেন বা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সর্বমিত্র ডাকসু’তে ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন। সর্বমিত্র ডাকসু-তে নির্বাচিত হবার পর, তার বিভিন্ন কার্যক্রম সর্বমানসে নিন্দিত ও সমালোচিত হয়। কিছুদিন আগে, হাতে লাঠি নিয়ে, শারীরিকভাবে আঘাত করে, ভয় দেখিয়ে, মালামাল ফেলে দিয়ে নৃশংসভাবে দরিদ্র ও ক্ষুদ্র দোকানিদের উচ্ছেদ করতে দেখা গেছে। তার সে আচরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তো কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, বরং তার এসব অপকর্মে ঢাবি উপাচার্যসহ প্রশাসন ও ডাকসুর সম্মতি ছিল বলে মনে হয়েছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ডাকসু হতে পদত্যাগ নয়, তাকে বহিস্কার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় শাস্তিস্বরূপ তার ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল করে স্থায়ী বাতিল কেন করা হবে না, সেজন্য তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে পারে। সর্বমিত্র ঢাবি ও ডাকসু সম্পর্কে জনমানসে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করেছেন।

সভ্য কোনও দেশে এমন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সর্বমিত্র-দের আটক করে আইনের আওতায় আনা হতো। এসব দেশের উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো, শিশু বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান, সরকার, আদালত এমন ঘটনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতো। দুর্ভাগ্য, এ দেশে আইনের শাসন না থাকায় সংশ্লিষ্টদের কোনও কিছুতেই টনক নড়ে না।

যেহেতু শিশুদের প্রকাশ্য কানে ধরানোর মতো অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে, শিশুদের মারাত্মকভাবে অপমান করা হয়েছে, সেহেতু সবার আগে জাতীয় শিশু একাডেমি, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘সর্বমিত্র চাকমা’সহ যারা শিশুদের কানে ধরে উঠবস করানোর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। তাছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় শিশু একাডেমির খুব কাছেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিশু একাডেমি’র মামলা করা উচিত। শিশুদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য নিয়োজিত মন্ত্রণালয় হিসাবে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিশুদের অপমান ও অবমাননাকর আচরণের দায়ে মামলা করতে পারে। সর্বমিত্র-দের ঠেকানো গেলে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু নির্যাতন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

খেলাধুলা শিশুদের অধিকার, এ অধিকার ক্ষুন্ন করায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয় মামলা করতে পারে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ যাদের দায়িত্ব শহরে শিশুদের খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা, কিংবা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ – যাদের দায়িত্ব খেলার মাঠসহ পরিকল্পিত শহর বানানো, গণপূর্ত অধিদপ্তর – যাদের দায়িত্ব শহরে পর্যাপ্ত শিশু পার্কসহ পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা করা, তারাও শিশুদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের দায়ে মামলা করতে পারে। এতে নিজেদের ব্যর্থতা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

দেশে মানবাধিকার কমিশন ৫-আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রায় নিষ্ক্রিয়। মব কালচারসহ কোনও ঘটনায় তারা কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে এমনটা দেখিনি। তাদের কাছে আপাতত কোনও প্রত্যাশা নাই। এ প্রতিষ্ঠান সক্রিয় থাকলেও শিশু অধিকার লঙ্ঘনে তারা ব্যবস্থা নিতে পারত।

জাতীয় শিশু অধিকার ফোরাম নামে একটা নাগরিক সংগঠন আছে। শিশুদের উন্নয়নে বা মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে ‘অধিকার’সহ এমন অনেক বেসরকারি, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সংগঠন রয়েছে, তারাও মামলা করতে পারে। অতীতে কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং বর্তমানে মবোক্রেসির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানও কোনঠাসা রয়েছে।

রাষ্ট্রে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান যখন ব্যর্থ হয়, তখন সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আদালত। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী দেশে শিশু আদালত রয়েছে। ভিকটিম শিশুদের পরিবার বা যে কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠান চাইলে সেখানেও মামলা করতে পারে। সেটাও যদি না হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ আদালত স্ব-প্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। মহামান্য হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য সুয়োমুটো রুল জারি বা শিশুদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের দায়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানো নোটিশ জারি  এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিতে পারে।

আমরা জানি, খেলাধুলা হচ্ছে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মাংশপেশি ও হাড়ের গঠন শক্ত হয়, শরীরের শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধি পায়, শিশুরা বন্ধুবৎসল ও সামাজিক হয়ে উঠে, শিশুদের নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়। খেলাধুলা শিশুদের মাদক বা নেশা থেকে দূরে রাখে। একাকীত্ব, হতাশাগ্রস্ত হওয়ার মতো অভিশাপ থেকে সুরক্ষা দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু খেলাধুলার সুযোগ পায় না, চার দেয়ালে বদ্ধ ঘরে একাকী বড় হয়, তারা স্বার্থপর ও আত্মঘাতী হয়ে উঠে।

বাংলাদেশের সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৮(১)-এ জনস্বাস্থ্যের উন্নতিকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের উন্নতির অন্যতম পূর্বশর্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম – যার প্রধান উপায় খেলাধুলা। শিশুদের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের, কিন্তু সার্বিকভাবে রাষ্ট্র সকল নাগরিকের সুরক্ষা প্রদান করে। সর্বমিত্রের এ ঘটনায় রাষ্ট্র বনাম সর্বমিত্রগং মামলা হতে পারে।

যে কোনও বয়সে খেলাধুলার উপযোগিতা বলে শেষ করা যাবে না। শিশুদের জন্য খেলাধুলার প্রয়োজন খুবই বেশি। খেলাধুলা করতে পারা শিশুদের অন্যতম মৌলিক অধিকারও। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রাষ্ট্রের পক্ষে সরকার, সরকারের পক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অধীনস্ত দপ্তর/সংস্থা বিভিন্ন আইনের অধীন দায়িত্ব পালন করে। ঢাকা শহরে প্রয়োজনের তুলনায় খেলার মাঠের সঙ্কট রয়েছে। সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব শিশুদের খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা। তারা সেটা পারেনি, এ ব্যর্থতা সম্মিলিতভাবে সকলের, সরকার ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপূর্ণ বর্তমান ও অতীতের সকলের।

শিশুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দিনের বেলায় খেলতে গিয়েছিলো। তারা মাদক সেবন করতে যায়নি, কাউকে মারতে যায়নি। তবু, বহিরাগত এসব শিশুর খেলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাইরের শিশুদের আগমন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই শিশুদের প্রকাশ্য কোনও ধরনের অপমানজনক সাজা দেওয়া যায় না। এমনকি, মাদক সেবন বা অপরাধেও যুক্ত হলেও শিশুদের এমন সাজা দেওয়া যায় না। সেজন্য আইনানুগ ব্যবস্থায় তাদের শিশু সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো যায়।

সর্বমিত্রের আগাসী কাজে ক্ষুব্ধ কেউ কেউ তাকে ফাটাকেস্ট, কেউ কেউ ধূর্ত, কেউ কেউ সন্ত্রাসী হিসাবে অভিহিত করছেন। সর্বমিত্র’র আগ্রাসী আচরণ সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দোকানী থেকে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনও বিকার আছে বলে মনে হয় না। যদি উপাচার্যসহ ঢাবি প্রশাসনে ‍যুক্তদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ থাকে তবে সর্বমিত্র-কে কারণ দর্শানোর ব্যবস্থা নিতে পারে। তাকে এখনই থামানো দরকার। নইলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও শিশুর সঙ্গে অমানবিক আচরণ আরও বাড়বে। সমাজে উগ্রতা ও অপরাধ বাড়বে।

মনে রাখা দরকার, জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ১৯৪৮-এর ধারা ৫-এ বলা হয়েছে, ‘কা‌উকে নির্যাতন করা যাবে না; কিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না অথবা কা‌উকে এহেন শাস্তি দেওয়া যাবে না’। ধারা ১১.২ এ বলা হয়েছে, ‘২. কা‌উকে‌ই এমন কোন কাজ বা ত্রুটির জন্য দণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না, যে কাজ বা ত্রুটি সংঘটনের সময় জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আ‌ইনে দণ্ডনীয় অপরাধ ছিল না। দণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের সময় যে শাস্তি প্রযোজ্য ছিল, তার চেয়ে গুরুতর শাস্তি‌ও দে‌ওয়া চলবে না।’

জাতিসংঘের সার্বজনীন শিশু অধিকার সনদ ১৯৯০ পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি গ্রহণযোগ্য ও স্বল্পতম সময়ে বাধ্যতামূলক চুক্তিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশ সরকার সাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে, এটি বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এর ধারা ১৯-এ শিশুদের যে কোনও ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন এবং ধারা ৩৬-এ শিশুদের শোষণ থেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি, ধারা-৩৭ এ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে দায়ে অভিযুক্ত শিশুকে  নির্যাতন, সহিংস আচরন থেকে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের অধিকার দেশের জনগণকে জানাবে সরকার, যা শিশু অধিকার সনদের ধারা ৪২-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় শিশু নীতির ৪: মূলনীতি হিসাবে ৪.২-এ উল্লেখ করা হয়েছে, “শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন ও বৈষম্য দূরীকরণ”, যা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ নীতির ৬.৬: শিশুর বিনোদন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অংশে ৬.৬.১-এ বলা হয়েছে, ‘শিশুর জন্য মানসম্পন্ন বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য খেলার মাঠ, খেলার সরঞ্জাম রাখা, এলাকাভিত্তিক শিশুপার্ক স্থাপন ও ক্রীড়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, এবং নগর পরিকল্পনায় আবশ্যিকভাবে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।…’ এ নীতির ৬.৭: শিশুর সুরক্ষা অংশে ৭.৭.১-এ বলা হয়েছে, ‘সকল প্রকার সহিংসতা, ভিক্ষাবৃত্তি, শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন এবং শোষণের বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে’।

শিশুদের যে কোনও ধরনের অপরাধ ও নিপীড়ন থেকে সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের পক্ষে সরকার, আদালত, ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ঢাবি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বা জিমনেসিয়ামে শিশুদের কানে ধরে উঠবস করানোর জন্য সর্বমিত্র-সহ জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকার ও আদালতকে দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা -আপনাদের ভূমিকা দেখতে চাই। দেখতে চাই, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আপনারা অতীতের মতোই বর্তমানেও সক্রিয় রয়েছেন।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও নীতি বিশ্লেষক; সদস্য, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম