প্রতিবছর আগস্টের ২৫ তারিখ আসলে রোহিঙ্গা ঢলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমি বাংলা ট্রিবিউনের জন্য নিয়ে একটা লেখি। এ বছরও রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছরপূর্তি উপলক্ষ নিয়ে এ লেখাটা লিখছি। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত জেনোসাইড থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় রোহিঙ্গা ইনফ্লাক্স— যার আমি বাংলা করেছি “রোহিঙ্গা ঢল”। কেননা, হাজার হাজার নয় লাখে লাখে রোহিঙ্গা সে সময় ঢলের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ফলে প্রতিবছর ২৫ আগস্ট এই রোহিঙ্গাদের ঢলের বর্ষপূর্তিকে বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা, রোহিঙ্গা ডাইয়াসপোরা, দেশে-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ অনেক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এটাকে ‘রোহিঙ্গা জেনোসাইড রিমেম্রারেন্স ডে’ হিসেবে পালন করে। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী আজকে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর বর্ষপূর্তি এবং ১০ বছরের প্রারম্ভনা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ২০১৭ সালেই রোহিঙ্গারা প্রথম বাংলাদেশে প্রবেশ করে। রোহিঙ্গারা মোটা দাগে বাংলাদেশের প্রথম আসে ১৯৭৮ সালে, দ্বিতীয় দফায় আসে ১৯৯১-১৯৯২ সালে, তৃতীয় দফায় আসে ২০১২ সালে, চতুর্থ দফায় আসে ২০১৬ সালে এবং পঞ্চম দফায় আসে ২০১৭ সালে। আবার এই পাঁচটি সাল সুনির্দিষ্ট করে বলার অর্থ এই নয় যে, এই পাঁচবারের বাইরে বাংলাদেশে কোনও রোহিঙ্গা আসে নাই। মূলত, নিয়মিতভাবেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় প্রবেশ করেছে। সরকারি এক তথ্যমতে, ২০২৪ সালের পরে আরাকান আর্মির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জীবন বাঁচাতে প্রায় দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আরও একটি তথ্য প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় জানিয়ে রাখি যে, প্রতি সপ্তায় প্রায় ১৫ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে রেজিস্টার করে। ফলে, “রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর” এই কথার অর্থ এই নয় যে, ২০১৭ সালের আগে এবং পরে আর কোনও রোহিঙ্গা বাংলাদেশের প্রবেশ করেনি।
রোহিঙ্গার ঢলের নবম বর্ষপূর্তিতে আলোচনার বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে তিনটি প্রধান ইস্যূ— এক. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎ কতদূর? দুই. সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত এবং প্রচারিত তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গার যে তালিকা প্রদান করা হয়েছে— যাদেরকে মিয়ানমার যাচাই-বাছাই করে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, সেটার তাৎপর্য কী? তিন. রোহিঙ্গা সমস্যার এই দীর্ঘমেয়াদি চরিত্র বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার জন্য কতটা হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে?
এক. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎ কতদূর?
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎ কতদূর এটা নিয়ে কনফ্লুসিভ কোনও কথা বলা সম্ভব নয়। কেননা, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাখাইনে আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তার এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করবার ক্ষেত্রে ধীরগতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে দিচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবং চলমান সিভিল ওয়ারের কারণে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কর্তৃত্ব বিভিন্ন রাজ্যের ওপর ক্রমান্বয়ে লোপ পাচ্ছে; বিশেষ করে রাখাইনের ওপরে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। তাই যদি ঢাকা এবং ইয়াংগুন প্রত্যাবাসন ইস্যূতে কোনও সিদ্ধান্তেও পৌঁছায়, সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের আছে কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।
অপরদিকে আরাকান আর্মির কর্তৃত্ব রাখাইন রাজ্যে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আরাকান আর্মির অনুমোদন ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরাকান আর্মির সম্পর্ক অত্যন্ত শত্রুভাবাপন্ন। যে কারণে আরাকান আর্মির অত্যাচারে প্রায় দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা গত দুই বছরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এরকম একটা অবস্থায় রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো বাস্তবসম্মত নয়। কেননা, জীবনের নিরাপত্তা না পেলে কোনও রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলে আমার মনে হয় না। একথা সত্য যে, রোহিঙ্গাদের মেজরিটি বারবার বলার চেষ্টা করেছে, যদি তাদের নাগরিকত্ব দেয়াও হয়, তাদের জীবনে নিরাপত্তা দেয়াও হয় এবং তাদের যদি মানবিক মর্যাদা দেওয়া হয়, তাহলে তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাবে। কিন্তু এর কোনোটার কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি কোনও পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদেরকে দেওয়া হয়নি। ফলে মিয়ানমারের জায়গা থেকে কোনও ধরনের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি না পাওয়া গেলে রোহিঙ্গাদের পক্ষে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা আমি দেখি না।
এছাড়া সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিগত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানান ধরনের রূপান্তর ঘটেছে। ফলে, নিজের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বাংলাদেশ অধিকতর মনোযোগী থাকার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ততটা গুরুত্ব সহকারে প্রায়োরিটি এজেন্ডা হিসেবে আমরা আলোচনার টেবিলে দেখি নাই। ফলে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাই খুব দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আমার মনে হয় না।
দুই. মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গার শনাক্তকরণ
সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে ৩ লাখের কিছু বেশি রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই করে রাখাইনের রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করেছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণাটি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
যেমন ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার একটা তালিকা মিয়ানমারের হাতে হস্তান্তর করে। মিয়ানমার গত আট বছরে যাচাই-বাছাই করে চার লাখ রোহিঙ্গার তালিকা থেকে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করে— যার অর্থ দাঁড়ায় বাকি ৪ লক্ষাধিক তালিকা এখনও যাচাই-বাছাই করা হয়নি। আমরা অনুমান করে নিতে পারি— যদি সেই চার লাখ থেকে আরও তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রাখাইনের রেসিডেন্টস হিসেবে শনাক্ত হয়, তাহলে ৮ লাখের তালিকা থেকে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার নিজেদের দেশের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করছে। একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আরও ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। কেননা, ইউএনএসসিআর-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমান রোহিঙ্গা সংখ্যা ১২ লক্ষের বেশি। সুতরাং, ২০১৮ সালে যে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা বেড়ে এখন ১২ লক্ষাধিক হয়েছে। ফলে ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আরও ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার তালিকা বাংলাদেশ নীতিগতভাবে মিয়ানমারের হাতে হস্তান্তর করতে পারে। তিন লাখের সূত্রানুযায়ী সেই নতুন তালিকা থেকেও যদি প্রায় তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে টোটাল ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে থিওরিটিক্যালি শনাক্ত হওয়ার কথা। সুতরাং, মিয়ানমারের শনাক্তকৃত এই ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে কীভাবে ফেরত পাঠানো যায়, তার জন্য একটা অত্যন্ত ইন্টেলিজেন্স এবং ইফেক্টিভ ডিপ্লোমেটিক মুভ জরুরি।
এখানে মনে রাখতে হবে যে, কনভেনশনাল ডিপ্লোম্যাটিক পলিসি দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার মতো একটা জটিল সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এটাকে স্পেসিফিক একটি ক্রাইসিস হিসেবে বিবেচনা করে একটা গভীর গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ করে এক আউটকাম-বেইজ ডিপ্লোম্যাটিক পলিসি প্রণয়ন করবার প্রয়োজন আছে। শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং জাতিসংঘসহ আন্দোলন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমারকে অ্যাকাউন্টেবল করতে হবে। অন্যথায়, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রত্যাবাসন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিন. দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সমস্যা
আরেকটা বিষয় বেশ জোরে আলোর আলোচনা হচ্ছে যে, রোহিঙ্গা সমস্যা এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অ্যাকাডেমিক ভাষায় কোনও শরণার্থী সমস্যা যদি পাঁচ বছরের মধ্যে সমাধান হয়ে যায় এবং শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে যায়— তখন সেটাকে আমরা ইমার্জেন্সি রেসপন্স বা হিউম্যানিটারিয়ান সাপোর্ট বলে থাকি। কিন্তু যখন পাঁচ বছর পেরিয়ে যায়, তখন সেটাকে অ্যাকাডেমিক ল্যাঙ্গুয়েজে বলা হয়— প্রোট্রাক্টেড রিফিউজি সিচুয়েশান বা দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যা এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সমস্যা হোস্ট কান্ট্রির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা সংকট তৈরি করবে, সেটা অনস্বীকার্য। কিন্তু এই ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে কীভাবে একটি উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী হিসাবে পরিণত করা যায় এবং ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব চাহিদা মেটানো জন্য তাদেরকে বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে লাগানো যায়, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন আছে। যেহেতু রাতারাতি এ সমস্যার সমস্যান সমাধান হচ্ছে না, সেহেতু হাত গুটিয়ে বসে না থেকে সেটার পরিকল্পনা করা জরুরি। পাশাপাশি এই দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থীর সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে নিষ্ক্রিয়তা এবং নির্লিপ্ততা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে উঠেছে, সেটাকে যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করে, তাদেরকে রি-অ্যাক্টিভেট করতে হবে। অন্যথায়, এর সমস্যা থেকে বের হওয়া বাংলাদেশের জন্য ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিল তর হয়ে উঠবে।
পরিশেষে বলতে চাই, রোহিঙ্গা সমস্যা বা সংকটের জন্য রোহিঙ্গারা দায়ী নয়। রোহিঙ্গারা এখানে কোনও বিনোদন ট্রিপে আসেনি। জেনোসাইড থেকে নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণভয়ে এদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হলেও, তাদেরকে দেখতে হবে মানবিক জায়গা থেকে। কেননা, পৃথিবীতে মানুষ আগে এসেছে। রাষ্ট্র এসেছে পরে। রাষ্ট্র এসেই মানুষকে ‘রাষ্ট্রসহ’ বনাম ‘রাষ্ট্রহীন’ বর্গে পরিণত করেছে। কপাল দোষে রোহিঙ্গারা আজ ‘রাষ্ট্রহীন’ বর্গের অন্তর্ভুক্ত।
লেখক: ড. রাহমান নাসির উদ্দিন, নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়