জাতিসংঘের মঞ্চে মুসলিম বিশ্বের অবস্থানকে অনেক সময় একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হয়। ফিলিস্তিন, গাজা, জেরুজালেম কিংবা মুসলিম বিশ্বের অন্য সংকটে অধিকাংশ মুসলিম দেশ একই ধরনের বক্তব্য দিলেও ভোটাভুটির সময় চিত্রটি প্রায়ই ভিন্ন হয়ে ওঠে। কোনো কোনো প্রস্তাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, আবার কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই পাশে দাঁড়ায়। মরক্কো, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলিম পরিচয় ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের আবেগের সঙ্গে কখনো কখনো ভিন্ন পথে গিয়ে এসব দেশ কেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে? এর উত্তর খুঁজতে হলে ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রত্যেক দেশের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি, অর্থনীতি, জ্বালানি, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে হবে।
এখানে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া মানেই এসব দেশ ওয়াশিংটনের সব নীতিকে সমর্থন করে না। বরং একই দেশ এক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভোট দিতে পারে, অন্য ইস্যুতে তার বিরোধিতা করতে পারে। জাতিসংঘের কূটনীতিতে এটিই বাস্তববাদী রাষ্ট্রনীতি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম মৌলিক বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি মূলত তার জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। মুসলিম দেশগুলোও এর বাইরে নয়। ইসলামি সংহতি তাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি উপাদান হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ, ভূখণ্ডগত দাবি কিংবা ক্ষমতার ভারসাম্য অনেক সময় অধিক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মরক্কোর অবস্থান এর একটি পরিষ্কার উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কোর সম্পর্ক বহু পুরোনো। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে; নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও দীর্ঘদিনের। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মরক্কোর যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মরক্কোতে রপ্তানি ৪৮১ মিলিয়ন থেকে ৩ দশমিক ৪৯৬ বিলিয়ন ডলারে বেড়েছিল।
তবে মরক্কোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোর একটি হলো পশ্চিম সাহারা। এই ভূখণ্ডের ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবি দেশটির পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যু। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মরক্কোর কাছে শুধু বাণিজ্য বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জাতীয় ভূখণ্ড ও কূটনৈতিক স্বার্থও জড়িত। এই বাস্তবতা জাতিসংঘে মরক্কোর অবস্থান বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মরক্কোর সঙ্গে তাজিকিস্তানের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। মধ্য এশিয়ার এই দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো আফগানিস্তান, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও সীমান্ত নিরাপত্তা।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাজিকিস্তান ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ মাদকবিরোধী কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, পারমাণবিক বিস্তার রোধ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতা করে। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় তাজিকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশীদারও ছিল।
ভূগোলই তাজিকিস্তানের জন্য এই সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত আফগানিস্তানের সঙ্গে। আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও অস্ত্র পাচার সরাসরি তাজিকিস্তানের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। ২০২৬ সালের মার্কিন ভ্রমণ-নির্দেশনাতেও আফগান সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই তাজিকিস্তানের কোনো কোনো আন্তর্জাতিক ভোটকে কেবল ‘মুসলিম সংহতি’ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে দেশটির নিরাপত্তাগত বাস্তবতা অগ্রাহ্য হয়। তার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা-কৌশলের অংশ।
আজারবাইজানের অবস্থান আরও জটিল। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তার ভূরাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ককেশাস, তুরস্ক, রাশিয়া, ইরান এবং ইউরোপীয় জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজারবাইজানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে আজারবাইজানের জ্বালানি সম্পদ পশ্চিমা বাজারে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজারবাইজানের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দুই দেশ ইউরোপীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সহযোগিতা করেছে।
এখানে ইরানও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক উপাদান। আজারবাইজান ইরানের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত; অন্যদিকে রাশিয়া ও আর্মেনিয়ার সঙ্গে দেশটির সম্পর্কও নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল। ২০২৬ সালে ইরান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব আজারবাইজানের ওপরও পড়েছে; মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫ মার্চ ২০২৬ নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে এবং ইরান সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে আজারবাইজানের কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক পছন্দ নয়; এর সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানি, পশ্চিমা বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর শক্তির ভারসাম্য জড়িত।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হিসাব সবচেয়ে বহুমাত্রিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণ আরও বিস্তৃত। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউএই-কে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেছে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক বিস্তার রোধ, বাণিজ্য, আইন প্রয়োগ, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সামরিক সম্পর্ক। মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইউএই-তে আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে প্রায় ৩,৫০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করেছে এবং ইউএই-র বন্দরগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর ইউএই-সহ উপসাগরীয় দেশগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মার্কিন ভ্রমণ-নির্দেশনায় ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইউএই-তে ইরান থেকে ২,০০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব, ইউএই-র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা কোনো আদর্শগত আনুগত্যের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কও একটি কারণ। মরক্কো ও ইউএই-র মার্কিনঘনিষ্ঠতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো আব্রাহাম অ্যাকর্ডস। ২০২০ সালে ইউএই ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে যায়। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ছিল প্রধান মধ্যস্থতাকারী।
এখানে একটি সূক্ষ্ম বাস্তবতা আছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা মানেই ফিলিস্তিনের সব দাবি প্রত্যাখ্যান করা নয়। ইউএই ও মরক্কো উভয়ই বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে। ফলে তাদের পররাষ্ট্রনীতি একই সঙ্গে ওয়াশিংটন-তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিনের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন, এই দুই ধারাকে সামলানোর চেষ্টা করে।
জাতিসংঘে তাহলে কি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য দুর্বল? এ প্রশ্নের উত্তর সরল নয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের পার্থক্য রয়েছে; এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। আরব উপসাগরের রাজতন্ত্র, উত্তর আফ্রিকার রাষ্ট্র, মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্র এবং ককেশাসের মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা-পরিবেশ এক নয়। ফলে ‘মুসলিম দেশ’ পরিচয়টি তাদের পররাষ্ট্রনীতির একমাত্র নির্ধারক হতে পারে না।
তবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে এই ভিন্নতার একটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। গাজায় মানবিক সংকট যত গভীর হয়েছে, মুসলিম বিশ্বের জনমত ও রাষ্ট্রীয় কূটনীতির মধ্যে কখনো কখনো ব্যবধানও দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে; একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় অধিকারের দাবি জানিয়েছে। এটি এক ধরনের কৌশলগত ভারসাম্য, যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করেও তার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়।
এই বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবেগের পাশাপাশি স্বার্থের হিসাবও করতে হয়। কোনো বড় শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু ও ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা; সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘে মরক্কো, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি মুসলিম দেশের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের নেপথ্যে একক কোনো কারণ নেই। কোথাও পশ্চিম সাহারা, কোথাও আফগানিস্তান ও সীমান্ত নিরাপত্তা, কোথাও জ্বালানি ও পশ্চিমা বাজার, কোথাও ইরান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা, আবার কোথাও প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ; বিভিন্ন স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।
তাই বিষয়টিকে ‘মুসলিম দেশগুলো আমেরিকার পক্ষ নিয়েছে’ এমন সরল সমীকরণে দেখলে বাস্তবতা আড়াল হবে। বরং দেখা দরকার, কোন দেশ কোন ইস্যুতে কেন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং বিনিময়ে কী জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নির্ধারণে তা একমাত্র শক্তি হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, ভূরাজনীতি এবং ক্ষমতার ভারসাম্য অনেক সময় বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে মুসলিম দেশগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান তাই মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্বহীন ঐক্যের প্রমাণ নয়; বরং বহুমেরু বিশ্বে জাতীয় স্বার্থনির্ভর কূটনীতির ক্রমবর্ধমান বাস্তবতার প্রতিফলন।
আর এখানেই প্রশ্নটি আরও গভীর। মুসলিম দেশগুলো কি শুধু নিজেদের পৃথক জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বহুমুখী কূটনীতি চালাবে, নাকি ফিলিস্তিনসহ অভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশ্নগুলোতে সেই স্বার্থের পার্থক্য অতিক্রম করে বাস্তবসম্মত সমন্বিত কূটনৈতিক শক্তি তৈরি করবে? ভবিষ্যতের জাতিসংঘে মুসলিম বিশ্বের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর।
লেখক: সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
E-mail: fakrul@ru.ac.bd