চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা গবেষণা করে ইলিশ বাড়াবো। কিন্তু ইলিশ দেশের বাইরে যায়, জেলেরা চুরি করে জাটকা শিকার করে- এসব কারণে ইলিশের দামতো বেশি হবেই। দাম কমানোর জন্য আপনারা কাজ করবেন।
তিনি বলেন,‘ইলিশ গবেষক হিসেবে সবাই মনে করে আমি খুব বেশি ইলিশ মাছ খেতে পারি। কিন্তু অনেস্টলি বলছি- আমি ইলিশ কিনতে পারি কম। এখন বাজারে ইলিশের যে দাম- তাতে ইলিশ মাছ কিনতে যেতে আমারও ভয় হয়।’
এদিকে বহরিয়া এলাকার সুমন শেখ ও আবিদ ছৈয়াল বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রতিদিনই নদীতে নামছি। কিন্তু যে পরিমাণ মাছ পাই তাতে জ্বালানি তেল ও শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচের টাকাই উঠে না। এরপর তো দাদনদারের ঋণের কথাও ভাবতে হয়। সবমিলে আমরা ভালো নেই। তারা জানান, প্রতি নৌকায় যেখানে কমপক্ষে ১০-১২ হালি ইলিশ পাওয়ার কথা সেখানে তাদের জালে মিলছে মাত্র ৫-৭টি ইলিশ।
চাঁদপুরের সবচে বড় মাছঘাট বড়স্টেশনে দিয়ে দেখা যায় সেখানে কোনও হাকডাক নেই। মাছ শ্রমিকরা একরকম অলস বসে আছে। যে পরিমাণ ইলিশ ঘাটে আসার কথা তার এক চতুর্থাংশও আসছে না। আর যেসব ছোটবড় ইলিশ আসছে তার দাম আকাশচুম্বি।
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি হাজী জয়নাল মাল ও মৎস্য ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন গাজী জানান, যে পরিমাণ মাছ আসছে তার মধ্যে ছোট সাইজের ইলিশের পরিমাণই বেশি।
তিনি বলেন, কবে নাগাদ জেলের জাল ইলিশে ভরে যাবে আর কবে দাম কমবে তা জেলে এবং বিক্রেতারা কেউই বলতে পারছেন না। তারা শুধু বলছেন, ইলিশের ভরা মৌসুম না হলেও এমন সংকট হওয়ার কথা না।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও ইলিশ না পাওয়া সম্পর্কে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, এখন ইলিশের পোনাগুলো সাগরের দিকে যাচ্ছে। এ কারণে মে-জুন-জুলাই মাসে ইলিশ একটু কমই ধরা পড়ে। তবে এতে দুশ্চিন্তার করার কিছু নেই। আগস্ট থেকেই ইলিশ ধরা পড়বে। তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হয় ইলিশের মূল সিজন। আর বৃষ্টিপাতের ওপরেই ইলিশ প্রাপ্যতার বিষয়টি নির্ভর করে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে ‘বারি বাদাম ৮’ চাষে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
/টিএন/আপ-্এনএস/