গত কয়েক দিনের চলমান তীব্র গরমের মধ্যে বোরো ধান কাটা ও খড় শুকাতে গিয়ে চার দিনে জামালপুরে পৃথক স্থানে হিটস্ট্রোকে এক নারীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। মাদারগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
সবশেষ হিটস্ট্রোকে অসুস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে মারা যান মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের কৃষক টুনু আকন্দ (৫৫)। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার মৃত সাদেক আকন্দের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমিতে খড় শুকানোর কাজ করছিলেন টুনু আকন্দ। এ সময় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এর আগের দিন বুধবার (৩ জুন) দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকায় ধানের খড় শুকাতে গিয়ে বালি বেগম (৫৬) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত ইমান আলী প্রামাণিকের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ার চর গ্রামে ধান কাটার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে সানোয়ার হোসেন (৬৫)। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সানোয়ার ওই গ্রামের মৃত ওমের আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয়
রবিয়ার চর উত্তর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গত সোমবার (১ জুন) দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাতখাওয়া গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে মারা যান আসাদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের মো.মহল মণ্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাসের পর ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে ধান কাটার কাজে অংশ নিয়েছিলেন।








