লিখিত বক্তব্যে শিরিন আকতার জানান, তার স্বামী সাদেক আহম্মেদ গত ১৫ মে সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আহম্মেদ ওয়ার্কশপে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। এমনকি সেদিন থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। পরদিন নাটোর সদর থানায় একটি জিডি করেন তিনি। ওইদিন সন্ধ্যায় লিয়াকত নামে এক ব্যক্তি ০১৭৪৪-৭৪৮৭৪০ নম্বর থেকে ফোন করে তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রাতেই বিষয়টি নাটোর সদর থানায় জানানো হলে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। পরদিন ০১৭৭২-৯৩২০৯৪ নম্বর থেকে সমিজ পরিচয়ে একজন টাকা নিয়ে নাটোরের বানেশ্বর বাজার নামাজগ্রাম এলাকায় যেতে বলেন। টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় মোবাইলে স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও কাজ হয়নি। পরে মাজেদ পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি বাড়ির দলিল, চেক বই এবং ৬টি ১০০ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প নিয়ে ওই ঠিকানায় যেতে বলে।
শিরিন আকতার আরও বলেন, নাটোর পুলিশ কোনও সহযোগিতা না করায় তিনি বাধ্য হয়ে দেবর নায়েবকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির দলিল ও দাবিকৃত অন্য জিনিসসহ গত ১৮ মে সন্ধ্যায় বানেশ্বর বাজারে যান। তখন অপরিচিত ২ ব্যক্তি তাদের কিছুদূর নিয়ে যান। পরপর তিনটি গ্রুপের মাধ্যমে একটি মাটির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাড়িতে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় স্বামী সাদেক আহম্মেদকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তখন লিয়াকত, সমেজ, মাজেদ ও হান্নান দলিলসহ অন্য জিনিসপত্র কেড়ে নেন। এছাড়া চেক বইয়ে জোর করে তার স্বামীর সই নেন। পরে অপহরণকারীরা সারারাত তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে পরদিন সকালে টাকা সংগ্রহ করে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বলেন। সেখান থেকে ফিরে নাটোর থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ অপহরণকারীদের টাকা পরিশোধের পরামর্শ দেয়। এরপর ০১৭২২-৯৫৩২৮৪ নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, পুলিশকে জানিয়ে কোনও লাভ হবে না।
গৃহবধূ শিরিন আকতার আরও বলেন, অপহরণকারীদের ভয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বগুড়ায় বাপের বাড়িতে চলে এসেছি। গত বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণকারীরা ফোনে আমার স্বামীকে নির্যাতন চালানোর চিৎকার শোনান। মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতে বলেন। এ ঘটনায় আমি স্বামীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ওমরাহ পালন করতে যাওয়ায় তার দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম (তদন্ত) পুলিশের অসহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ সহযোগিতা নিতে থানায় আসেননি।
আরও পড়তে পারেন: সেলিম ওসমানের প্রশংসায় ফেসবুকে হেফাজতের ভিডিও
/এসএনএইচ/এমএনএইচ/