মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভা মালিকানাধীন এম সাইফুর রহমান মাকের্টের তৃতীয় তলার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহত কিশোরদের বাড়ী কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখলা চা বাগান এলাকায় বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতর্ব্যরত ডাক্তার ডা. মিনাক্ষী দেবনাথ ।
এম সাইফুর রহমান মাকের্টের ব্যবসায়ী জসিম মাঝি জানান, মাকের্টের পাশ দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্ট লাইনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু আছে। বিকেলে হঠাৎ আমরা ছাদে বিকট শব্দ হয়। পরে গিয়ে দেখা যায় দুই কিশোর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহতবস্থায় পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দেওয়ার দেড় ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারা। যদি তারা সময়মতো আসতে পারতো তাহলে রায়হান মিয়াকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
সাংবাদিক দীপংকর ভট্টাচার্য্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফায়ার সার্ভিস অফিসে ঘটনাস্থল থেকে ৪টা ১৪ মিনিটে ফোন করা হয়। কর্তব্যরত দমকলকর্মী জানান, পুলিশকে অবহিত করতে। পুলিশ জানালে তারা ঘটনাস্থলে যাবেন। ঘটনার দেড়ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, আহতদের দ্রুত শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসাপাতালে দ্রুত পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলার কারণেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মিনাক্ষী দেবনাথ বলেন, ঘটনাস্থলেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়। আর আহত আব্দুল আহাদকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল রেফার্ড করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তবে কিভাবে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হলো সে বিষয়ে কিছুই বলাতে পারছে না আহত আব্দুল আহাদ।
জানা যায়, ফায়ার সার্ভিস সিভিল স্টেশন শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ে তখন অন ডিউটিতে ছিলেন ফায়ারম্যান মাজহারুল হক। তিনি এ ঘটনায় ১০/১৫টি ফোন রিসিভ করেন। তিনি বলেন, আমাকে বলা হয়েছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে দুই কিশোর মারা গেছে। আমি তখন বলেছি পুলিশকে জানাতে,পুলিশ তাদের জানালে ঘটনাস্থলে দমকল কর্মী পাঠানো হবে। আমরা নিহত কাউকেই পুলিশের ইনফরমেশন ছাড়া উদ্ধার করতে যায় না।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার স্টেশনের সির্ভিল সার্ভিস ওয়্যার হাউজ ইনর্চাজ রবি উল্লহ কর্তব্যকাজে অবহেলার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় অবহেলাকারী ফায়ারম্যান মাজরুল হকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
/এসএনএইচ/