বাংলা ট্রিবিউনে আদিবাসীদের নির্যাতনের সংবাদ

রোয়াংছড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি এলাকায় ৫০ আদিবাসী পরিবারের ওপর নির্যাতন বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় টনক নড়েছে জেলা প্রশাসনের। এ সংবাদ দেখে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিকসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গত ৭ জুলাই ‘আতঙ্কে এলাকা ছাড়া ৫০ আদিবাসী পরিবার’ শিরোনামে সংবাদটি বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ করা হয়েছিল।

বান্দরবান

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের তালুকদার পাড়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকিতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসে ৫০টি আদিবাসী পরিবার বান্দরবান শহরের বিভিন্ন হোটেল ও স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে।

এ সংবাদের জের ধরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত এলাকাবাসীকে অভয় দেন এবং পালিয়ে আসা আদিবাসীদের এলাকায় ফিরিয়ে নিতে রোয়াংছড়ি উপজেলার তালুকদার পাড়া বৌদ্ধ বিহারে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন, পাড়া কারবারী মংপু মার্মাসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। সভায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতঙ্কে থাকা স্থানীয় আদিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

এসময় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে যা যা করা প্রয়োজন সব করা হবে। তিনি সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহায়তাও কামনা করেন।

সভায় জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক স্থানীয়দের জন্য স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে সবাইকে এলাকায় ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান এবং পালিয়ে যাওয়া আদিবাসীদের জন্য ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেন।
একশ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এলাকাটিতে ৭০টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করে আসছে। পাহাড়ে সশস্ত্র বিভিন্ন গ্রুপের খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও একের পর এক প্রাণনাশের হুমকির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় চাঁদাবাজির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের দুই সশস্ত্র গ্রুপ। এক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতির কারণে সন্ত্রাসীরা স্থানীয় আদিবাসীদের দায়ী করে ক্ষুদ্ধ হয়ে মারধর করে। পরে দফায় দফায় হত্যার হুমকির কারণে তারা এলাকা ছেড়ে বান্দরবান শহরে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বিমল চাকমাকে আটক করে এবং তিনটি মামলা দায়ের করে।

/এআর/টিএন/

আরও পড়ুন:

ফেসবুকে এখনও নিয়ন্ত্রণহীন সব ‘জিহাদি পেজ’

সংবাদমাধ্যম আমার বক্তব্য বিকৃতভাবে ব্যবহার করেছে: জাকির নায়েক

নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, স্বামীসহ গ্রেফতার

প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
হলি আর্টিজান থেকে উদ্ধার হওয়া সবাই নজরদারিতে